জানুয়ারি ৩১, ২০২২,১:০৪ পূর্বাহ্ণ
Reporter :- bdnewstv24.com
নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় চন্ডিগড় ইউনিয়নের রগজোর এলাকায় বোরো ফসল জমিতে গড়ে উঠেছে পি.এন.কোং ব্রিকস নামে অবৈধ ইটভাটা। আশপাশের জমি থেকে মাটি কেটে ওই ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় ভাটার মালিককে জরিমানাও করা হয়েছে। তারপরও ভাটায় ইট তৈরির কার্যক্রম চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরশহর থেকে সরিয়ে চলতি বছরে রগজোর এলাকায় সড়কের পাশে প্রায় ১২(বারো) একর ফসল জমিতে ইটভাটাটি স্থাপন করা হয়। ইটভাটার কারণে আশপাশের বোরো কৃষি জমির ফসল চাষাবাদে ব্যাহত হচ্ছে।
যদিও চলতি জানুয়ারি মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ভাটার মালিককে ৫০ (পঞ্চাঁশ) হাজার টাকা জরিমানা করেন। কিন্তুু তারপরও ইট ভাটায় পুরোদমে ইট তৈরি হচ্ছে।
২৮ শে জানুয়ারি২০২২ইং সরেজমিনে দেখা যায়, ইটভাটার পাশে ফসল জমি। এসব জমিতে বোরো ধান আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা।
দেখা যায়, বিভিন্ন ফসলের জমি থেকে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে কাটা হচ্ছে মাটি।
ফসল জমির ওপরের অংশের মাটি। ইটভাটার দখলে চলে গেছে পর্যটন এলাকায় বোরো ফসলে জমি। সড়কের পাশেই রাখা হয়েছে মাটি ও কাঠ। যন্ত্র দিয়ে কয়লা ভাঙার সময় ধুলাবালুতে আচ্ছন্ন হয়ে যায় এলাকা। ভাটাটিতে ২০০-৩০০ জন শ্রমিক কাজ করছেন।ভাটার পাশেই জমি আছে ০১(এক) জন কৃষকের । তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘এই ইটভাটার জন্য আমাদেরই বেশি ক্ষতি হচ্ছে। আমরা চাই এটি একেবারে বন্ধ হোক। কিন্তু মালিকের কাছে অসহায়।
রগজোর গ্রামের একজন পল্লী চিকিৎসক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, ইটভাটার ধুলা আর ধোঁয়ায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষি ফসলের জমি এবং এলাকার মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
ইট ভাটার মালিক মো: পাপ্পু মিয়া বলেন, ‘কৃষি ও পরিবেশ অধিদপ্তর কাগজ নেই তার কাছে। তিনি বলেন, চলতি মাসে তার ইটভাটা জরিমানা ও মামলা হয়েছে। তিনি মামলার হাজিরা দিতে কোর্টে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর নেত্রকোণার সহকারি পরিচালক সামছুন্নাহার বলেন, ওই ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই। এটি পরিবেশ বিপর্যয়ের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষতি করছে। উনার নামে পরিবেশ অধিদপ্তরে মামলা হয়েছে এবং ওয়ারেন্ট আছে। যেকোন মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন।
নেত্রকোণা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক এ.কে এম মোবারক আলী জানান, কৃষিজমির পাশেই অবৈধভাবে ওই ইটভাটাটি গড়ে উঠেছে আমার জানা নেই। কৃষিজমির পাশে ইটভাটা হতে পারে না।’
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাজীব-উল-হাসান জানান, ‘ কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেন তদন্ত করে ওই ইট ভাটার মালিকের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সকল সংবাদ সংগ্রহ করি ।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain