শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা, পুনরায় চালুর অগ্রগতি ও সম্ভাব্য বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন এবং পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে মতামত দেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, বেশ কয়েকটি দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এসব শিল্পকারখানায় বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। এখন সেই প্রস্তাবগুলোর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় শিল্পোন্নয়নে ভূমিকা রাখার সক্ষমতা যাচাই করা হবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, পুরো প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হতে হবে। কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যেন সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলো পিছিয়ে না যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলেন তিনি।
এই সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে ও জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তাও পৌঁছাবে।
সভায় বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা শিল্প পুনরুজ্জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন ও দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ উপস্থাপন করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা এবং কার্যকর বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বহু বছর ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আবারও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
Md. Riadul Islam (Afzal)