আগস্ট ৮, ২০২০,৭:৪১ অপরাহ্ণ
বরং করেন শেখ হাসিনা তার প্রমান আমি নিজেই…
-রাকেশ রহমান
(প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক,বাংলাদেশ সত্যের শক্তি; লেখক, তরুণ রাজনীতিবিদ)
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশদ্রোহী অসভ্য বাহিনী।
-শেখ হাসিনা
৩রা মে ১৯৮৪-এর এক পড়ন্ত বিকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনে বসে গল্প করছেন শেখ হাসিনা সহ কয়েকজন গল্পে গল্পে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও পাকিস্তান সেনাবাহীনির প্রসঙ্গ উঠলো সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কথা । শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে বললেন,এটা একটা সেনাবাহিনী হল ?এটা একটা বর্বর,নরপিচাশ,উচ্ছৃঙ্খল,লোভী,বেয়াদব বাহিনী । এই বাহিনীর আনুগত্য নেই ,শৃংখলা নেই ,মানবিকতা নেই ,মান্যগন্য নেই,নেই দেশপ্রেম । এটা একটা দেশদ্রোহী হায়েনার বাহিনী । তোমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কথা বলো । সারা বিশ্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মতো এতো ভদ্র ,নম্র,সত্য বিনয়ী এবং আনুগত্যশীল খুঁজে পাওয়া যাবেনা । কি অসম্ভব সভ্য আর নম্র তারা ।
২৫ শে মার্চ রাতে তারা (পাকিস্তানী আর্মী)এসে আব্বাকে (শেখ মুজিব)স্যালুট করল ,আম্মাকে ও স্যালুট করল আমাকেও স্যালুট করল । এবং তারা বলল স্যার আমরা এসেছি শুধু আপনাদের নিরাপত্তার জন্য । অন্য কোনো কিছুর জন্য নয় । আপনারা যখন খুশি যেখানে খুশি যেতে পারবেন । যে কেউ আপনার এখানে আসতে পারবে আমরা শুধু আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো । কেউ আপনাদের এখানে এলে আমরা তাকে ভালো ভাবে তল্লাশী করে ঢুকতে দেব । এই সবই করা হবে আপনাদের নিরাপত্তার জন্য । সত্যিই পাকিস্তানী সেনাবাহিনী যা করেছে তা সম্পূর্ণ আমাদের নিরাপত্তার জন্য করেছে । ২৬শে মার্চ দুপুরে যখন পাকিস্তানী আর্মী আব্বাকে নিয়ে যায় তখন জেনারেল টিক্কা খাঁন নিজে আব্বাকে ও মাকে স্যালুট দিয়ে আদবের সাথে দাড়িয়ে বিনয়ের সাথে আব্বাকে বলে স্যার আপনাকে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খাঁন আলোচনার জন্য নিয়ে যেতে বলেছেন,এবং এজন্যই আমরা আপনাকে নিয়ে যেতে এসেছি এবং উড্ডয়নের জন্য বিশেষ বিমান ও প্রস্তুত রেখে এসেছি । আপনাকে আমাদের সাথে যেতে হবে । আপনি তৈরী হন । এরপর তারা আব্বাকে এ ও বলল যে আপনি ইচ্ছা করলে (শেখ মুজিব)ম্যাডাম (বেগম মুজিব)যে কাউকে সঙ্গে নিয়ে নিতে পারেন । আব্বা মা’র সঙ্গে আলোচনা করে একাই গেলেন । শুধু তাই নয় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রসংশা করে শেষ করা যাবে না ।আমার দাদীর সামান্য জ্বর হয়েছিল,পাকিস্তানীরা হেলিকপ্টারে করে এনে ঢাকা পি,জি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছিলো । জয় (শেখ হাসিনার ছেলে)তখন পেটে,আমাকে প্রতি সপ্তাহে সিএমএইচ (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে)নিয়ে চেক্আপ করাতো,এবং তারা জয়ের জন্মের এক মাস আগে থেকেই সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করিয়াছে । ১৯৭১ সালে জয়ের জন্ম হওয়ার পর পাকিস্তান আর্মীরা খুশিতে মিষ্টি ভাটোয়ারা করেছে । এবং জয় জন্ম হওয়ার সমস্ত খরচ পাকিস্তানীরাই বহন করেছে । আমরা যেখানে খুশি যেতাম ,পাকিস্তানী আর্মীরা দুই জীপ করে আমাদের সাথে যেত এবং নিরাপত্তার জন্য পাহারা দিত ।
আর বাংলাদেশের আর্মীরা জানোয়ারের দল,অমানুষের দল । এই অমানুষ জানোয়ারেরা আমার মা-বাবা,ভাই সবাইকে মেরেছে-এদের যেন ধ্বংস হয় ।
তথ্য সূত্রঃ “আমার ফাঁসি চাই”
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain