মে ১৭, ২০১৬,৭:০৮ অপরাহ্ণ
বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম: ঢাকা: রাজধানীতে ১১০টি ভবন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।এগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগিরই এসব ভবন ভেঙে ফেলা হবে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। গত সপ্তাহে রাজউকে-এ বিষয়ে সভা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এসব ভবন ভাঙা হবে।’
মঙ্গলবার মিরপুরের ‘ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাসে করণীয় ও প্রস্তুতি’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খাঁন সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত গ্রহণ করা হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সভায় জানানো হয়, ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিরূপণের জন্য বিভক্ত সিসমিক জোনে ঢাকার অবস্থান মধ্যবর্তী স্তরে হলেও জনসংখ্যার আধিক্য ও অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং শিল্পায়নের ফলে এখানে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মৃদু ও মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় বড় ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য যথাযথ বিধিবিধান মেনে স্থাপনা নির্মাণ করলে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এছাড়া বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে ভূমিকম্প সহনীয় বা টেকসই করা সম্ভব। ভূমিকম্প মোকাবেলা ও সারাদানে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইন্টারন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ অ্যাডভাইজরি গ্র“প-এর গাইডলাইন অনুসারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মানের ৯ টি আরবান সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ টিম গঠন করেছে।
এছাড়াও জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দুর্যোগ মোকাবেলায় জনগণের সম্পৃক্ততা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে নিয়মিত গণসংযোগ, মহড়া ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঢাকা শহরের ভূমিকম্প দুর্যোগ মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।’
কর্মকর্তারা বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সকল বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত যৌথ মহড়া ও অনুশীলনে ফায়ার সার্ভিস অংশ নেয়।’
মহাপরিচালক বলেন, ‘ভূমিকম্পপ্রবন এলাকা হিসেবে আমরা দেশকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছি। এর মধ্যে সিলেট ও রংপুর অঞ্চল প্রথম ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্বিতীয় ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা। এছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বাকি এলাকাগুলো ঝুঁকির তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ কখনও বলে কয়ে আসে না। আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। তাই আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। কয়েকবছর আগেও আমাদের ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা ছিল ৩১৪টি। কিন্তু ২০১৭ সালের মধ্যে দেশে ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা ৫৫২ টি হবে।’
দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ফায়ার সার্ভিস কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি করে মহাপরিচালক বলেন, ‘২০১৫ সালে সারাদেশে ৮৫ হাজার ৬ শত ৪০ জনকে সচেতন করেছে ফায়ার সার্ভিস। ৬২ হাজার ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ইতিমধ্যে ৩২ হাজার ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের সময় নিয়ম মেনে করা হয় না। এতে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই এসব বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।’
প্রকৃতির পানির উৎসগুলোকেও টিকিয়ে রাখতে হবে বলেও তিনি মতপ্রকাশ করেন।
অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খাঁনের সভাপতি এসময় বক্তব্য রাখেন মেজর (অপারেশন) শাকিল নেওয়াজ, পরিচালক (পরিকল্পনা, উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ) লে. কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হুসেন।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain