মে ২৭, ২০২০,১:২৭ অপরাহ্ণ
ঢাকা : কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শরীরে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নগর হাসপাতালে নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিসের পর ‘ও পজিটিভ’ ব্লাড গ্রুপের ২০০ মিলি প্লাজমা দেওয়া হয়।
রাতে এ তথ্য নিজেই জানিয়েছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্লাজমা নিয়ে আসা হয়। জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এখন আমি ভালো আছি।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নগর হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সাইমুম আরাফাত পান্থ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি (জাফরুল্লাহ চৌধুরী) গত প্রায় ছয় বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে তিনবার করে ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন। বুধবার (২৭ মে) তার পিসিআর টেস্ট করার সম্ভাবনা আছে। জ্বর আগের থেকে কমলেও এখন তার কাশি বেড়েছে।
এদিকে সোমবার রাতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান। রোববার গণস্বাস্থ্যের ল্যাবে পরীক্ষায় তার কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে।
খ্যাতিমান চিকিৎসক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং মুক্তিযোদ্ধা জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নামক স্বাস্থ্য বিষয়ক এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮২ সালে প্রবর্তিত বাংলাদেশের ‘জাতীয় ঔষধ নীতি’ ঘোষণার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৪১ সালের ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজানে জন্ম নেয়া জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বাবার শিক্ষক ছিলেন বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেন। দশ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ঢাকার বকশীবাজারের নবকুমার স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট উত্তীর্ণের পর তিনি ১৯৬৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে ব্রিটেনের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস থেকে এফআরসিএস প্রাইমারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
এরপর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এফআরসিএসের চূড়ান্ত পর্ব শেষ না করে লন্ডন থেকে ভারতে ফিরে এসে যুদ্ধে অংশ নেন। আগরতলার মেলাঘরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গেরিলা প্রশিক্ষণ নেন এবং এরপরে ডা. এম এ মবিনের সাথে মিলে সেখানেই ৪৮০ শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেক নারীকে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিতেন এবং তাদের দিয়ে রোগীদের সেবা করতেন। তার এই অভূতপূর্ব সেবাপদ্ধতি পরে বিশ্ববিখ্যাত জার্নাল পেপার ‘ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত হয়।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এছাড়াও ফিলিপাইন থেকে রেমন ম্যাগসাইসাই (১৯৮৫) এবং সুইডেন থেকে বিকল্প নোবেল হিসাবে পরিচিত রাইট লাভলিহুড (১৯৯২), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল হেলথ হিরো’ (২০০২) এবং মানবতার সেবার জন্য কানাডা থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain