ডিসেম্বর ২২, ২০১৯,১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম : মো: শহিদুল ইসলাম : চট্টগ্রাম:
শিল্পী পার্থ বড়ুয়ার সেই জনপ্রিয় গান ‘ও বন্ধু তোকে মিস করছি ভীষণ’, রবীন্দ্রনাথের ‘পুরানো সেই দিনের কথা-ভুলবি কিরে হায়- ও সে চোখের দেখা, প্রাণের কথা-সে কি ভোলা যায়’, সৈয়দ শাহ নূরের ‘বন্ধু তোর লাইগা রে- আমার তনু জড়জড়- মনে লয় ছাড়িয়ারে যাইতাম- থুইয়া বাড়ি ঘর- বন্ধু তোর লাইগা রে’, শারমিন সুলতানা সুমির ‘কতজন আসে যায়, তোর মতো কেউ না- বুঝে না কেউ যা-বুঝে যাস তুই তা, এভাবে যদি দিন , যায় কেটে যায় যাক না- রোদ-ছায়া রাত-দিন হাত ধরে থাক না’।
জনপ্রিয় এসব গানের কথাগুলো লেখা ছিলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের রজতজয়ন্তীতে টানানো বিভিন্ন ফেস্টুনে। শুধু ফেস্টুনেই নয়, সত্যিই বন্ধুদের খুব মিস করছিলো বলে ২৫ বছর পূর্তিতে ছুটে এসেছিলেন তারা। আবেগে কেউ কেউ কেঁদেই ফেলেছেন মঞ্চে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে।
দুই দিনব্যাপী উৎসব শুরু হয় ১৯ ডিসেম্বর। প্রথমদিনের মত দ্বীতিয় দিনেও মিলিত হয়েছিলো প্রথম ব্যাচ থেকে শুরু করে ২৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীরাও। প্রাণের এ মেলবন্ধনে অংশ নিতে দেশ বিদেশ থেকে ছুটে এসেছেন অনেকে। ২য় ব্যাচের শিক্ষা
চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লু’র বে ভিউতে অনুষ্ঠিত রজতজয়ন্তী উৎসবের ২য় দিনে বিভাগের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও বিভাগের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এদিন স্মৃতিচারণ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এলামনাই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শিমুল নজরুল ও সাধারণ সম্পাদক হামিদ উল্লাহ।
প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী শিমুল নজরুল। বর্তমানে তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠের চট্টগ্রামের ডেপুটি ব্যুরো চিপ। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এলামনাই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, স্মৃতি রোমন্থনের এই মিলন মেলায় সবাইকে একত্রিত করতে পেরে এবং বন্ধুদের সঙ্গে একত্রিত হতে পেরে মনে হচ্ছে ৩ মাসের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আয়োজিত এ উৎসব সফল। সেই প্রথম ব্যাচের ১২জনের মধ্যে ৯ জন এসেছে আমাদের। শত ব্যস্ততার মাঝেও বন্ধুত্ব আর বিভাগের টানে দূর দূরান্ত থেকে সবার ছুটে আসা আমাদেরকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, শুধু উদযাপনের মধ্যেই আমাদের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কাজ সিমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন ও বিভাগ আধুনিকায়ণে শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ ও কাজ করে যাবো।
১ম ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী অফিউল হাসনাত রুহিন। তিনি ফিনল্যান্ডের লিডিং ইংরেজী দৈনিক ডেইলি ফিনল্যান্ড’র সম্পদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ সালে দ্য ডেইলি স্টারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। রজতজয়ন্তীতে অংশ নিতে ১৩ ডিসেম্বর সুদূর ফিনল্যান্ড থেকে এসেছেন তিনি। অনেক বছর পরে বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত। ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতি রোমন্থনে তিনি বলেন, ‘শিবিরের একচ্ছ্বত্র আধিপত্যের কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কনসার্ট করতে পারতো না কেউ। কিন্তু আমরা ২য় ব্যাচের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে সেটা করে দেখিয়েছি। সে সময় অন্যরকম আনন্দ পেয়েছিলাম। ক্যাম্পাস জীবনের মনে রাখার মতো একটা দিন ছিল।
৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী তন্ময় মজুমদার। তিনি জাপান দূতাবাস ঢাকায় পলিটিক্যাল স্পেশালিষ্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি তিনি বিভাগের এলামনাই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, ‘ আমাদের সবচেয়ে আনন্দের স্মৃতি হলো সপ্তম ব্যাচের সুন্দরবন শিক্ষা সফর। মনে পড়ে আমরা তখন ৭ দিন লঞ্চের কেবিনে ছিলাম। ২৫ জনের এ ভ্রমণে আমাদের সাথে ছিলো দুইজন শিক্ষক। তিনি বলেন, এবার আমরা একত্রিত হয়ে নতুন করে শিক্ষার্তীদের গবেষণার বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। গবেষণা ছাড়া উচ্চ শিক্ষার কোন মূল্য নেই। গবেষণায় পিছিয়ে থাকাতে আমরা চাকরির ক্ষেত্রেও পিছিয়ে পড়ি। শিক্ষার্থীদের গবেষণা উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
২৫তম ব্যাচ তথা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেরুন্নেসা বলেন, ১ম বর্ষেই এমন আয়োজন পাবো সেটা ভাবতেও পারিনি। আজকে অনেক প্রতিষ্ঠিত মানুষকে দেখেছি, যারা আমাদের এ বিভাগ থেকেই পড়ালেখা করেছে। আমরা তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি।
এদিন বিকেল ৩টায় সাংস্কৃতিক পর্বে ব্যান্ড দল আভাস’র শিল্পী তানজীর তুহিনের পরিবেশনায় জনপ্রিয় সব গানে মেতেছিল যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনব্যাপী রজতজয়ন্তী উৎসব।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain