জুন ৪, ২০১৮,৫:৪২ পূর্বাহ্ণ
খালেদ সাইফুল্লাহঃ গত১৫ মে থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর প্রতি রাতেই বহু মানুষ কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছে। ১৯ মে রাত থেকে গত ১৩ দিনেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত একশ জনের।তবে র্যাব সদর দফতর জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানে গত এক মাসে (৪ মে-৩১ মে ১৮) র্যাব মোট ৮৩৭ টি অভিযান পরিচালনা করে। আর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয় ৪২৯টি। এসময় মোট ৪ হাজার ৬শ ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন ৩১ জন মাদক ব্যবসায়ী।র্যাব সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, মাসব্যাপী ৮৩৭টি অভিযানে গ্রেফতার হয় ১০২৬ জন। উদ্ধার করা হয় ৩ কেজি ৬শ ৫৯ গ্রাম হেরোইন, ৮ হাজার ৮১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৭ হাজার ১৪৬ বোতল ফেন্সিডিল, ৫২৮ কেজি গাঁজা, ২ হাজার ১৬৮ বোতল বিদেশি মদ ও ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৫১ লিটার দেশি মদ। উদ্ধারকৃত এসব মাদকদ্রব্যের বাজার মূল্য ৬২ কোটি টাকা।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে মাদক চোরাকারবারিদের দমন করছে- তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন মানবাধিকারকর্মীরা। বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারের এসব ঘটনাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করে তা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে তারা।মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে নিহতের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কার্যকর পন্থা নয়। অভিযানে মৃতের সংখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। নিয়ম মেনে সবার বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।’অন্যদিকে সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। মাদকের সঙ্গে যুক্ত কেউ ছাড় পাবে না, সে যেই হোক না কেন।কতদিন এই অভিযান চলবে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যে পর্যন্ত আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারব, সেই পর্যন্ত অভিযান চলবে। নির্দিষ্ট সময়-সীমা এটার মধ্যে নেই।”
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain