ডিসেম্বর ২১, ২০১৫,৫:২৬ অপরাহ্ণ
বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম:ঢাকা: সম্পদ আত্মসাৎ ও স্ত্রী সন্তানদের হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা ফোরকান আহমেদ এর বিরুদ্ধে। আর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন স্বয়ং তার স্ত্রী ও সন্তানরা। জাকিয়া সুলতানা আলো নামে এক পিএ সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে ৩২ বছরের সংসার এখন ধ্বংসের পথে রয়েছে বলেও অভিযোগে জানা গেছে।
আজ দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফোরকান আহমেদের প্রথম স্ত্রী রোকসানা সুফিয়া ও তার মেয়ে সিলতি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা সুফিয়া জানান, ১৯৮১ সালে কক্সবাজারে তাদের বাড়িতে গৃহ-শিক্ষকতার সুবাদে ফোরকান আহমেদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ভালোভাবেই সংসার চলছিল তাদের। দীর্ঘ সংসার জীবনে তিন কন্যা সন্তান আসে তাদের ঘরে। ফোরকান আহমেদ লে. কর্নেল হিসেবে চাকরি থেকে অবসর পান। এরপর তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। সেখানে ২০১২ সালে জাকিয়া সুলতানা আলো নামে ফোরকান আহমেদের পিএ’র সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরপর থেকে তাকে নিয়ে অন্য জায়গায় গোপনে জীবনযাপন করে আসছেন ফোরকান। কিন্তু জাকিয়া সুলতানার সঙ্গে বসবাসের পর থেকে ফোরকান তিন কন্যাসন্তানসহ পরিবারের ভরণ-পোষণ দিচ্ছেন না এবং কোন খোঁজ খবরও নিচ্ছেন না। ফোরকার তার পিএ’কে নিয়ে গোপনে ঢাকায় অবস্থান করে তার ভাই এনতাজ, ফেরদৌস, আইয়ুব ও বোনের জামাই আক্তার হামিদের মাধ্যমে এলাকার চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করেন। ফলে ঈদগাহ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হোসেন জাহান তার দীর্ঘ ৩২ বছরের সংসার জীবনের ইতি টানার ভূমিকায় রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা সুফিয়া আরো জানান, ফোরকান গংরা তাদের আপন মামাদের মতো মানুষ হত্যাকে পেশায় পরিণত করেছে। এজন্য চেয়ারম্যান হোসেন জাহানকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা বাবর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছিল। ফোরকানের পার্সোনাল সেক্রেটারি জাকিয়া সুলতানা আলোর বাবা আব্দুস সবুর, মা আক্তার বানুকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর তারা ফোরকানের কাছ থেকে আলোকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মৌখিকভাবে ওয়াদা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা তা রক্ষা করেননি।
অভিযোগে আরো জানানো হয়, ফোরকান তার মা-বাবার সুনাম বৃদ্ধির জন্য তার ভাইদের নামে কক্সবাজার কলাতলীতে হোটেল নির্মাণ করেন। যার সভ্য নং-২৫, প্লট নং-১১, ব্লক নং-এ এবং ৩ডি, ই.টি.আই.সি চট্টসরি, রোড, চট্টগ্রামে তার ভাই ফেরদৌসের নামে ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। আরেক ভাই এনতাজকে দিয়ে ঈদগাহ দক্ষিণ মেহেরঘোনায় কোটি কোটি টাকার জমি দখলসহ অসংখ্য জমি ভাইদের নামে ক্রয় করে।
কিন্তু স্ত্রী রোকসানা সুফিয়া ও মেয়েদের নামে থাকা দু’টি প্লটের ব্যাপারে ফোরকান হস্তক্ষেপ করে আসছে। এমনকি মেয়েদেরকে বাসার বাইরে নিয়ে মারধর করে ও হুমকি দিয়ে আসছে। বিষয়টি কক্সবাজারের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল ও মহিলা এমপি’কে জানানো হয়।
রোকসানা সুফিয়া সংবাদ সম্মেলনে জানান, ফোরকান তার সঙ্গে লিখিত আপোষ নামা করলেও তিনি প্রতিশ্রুতি পালন করেননি। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন। সিএমএম আদালতে সি, আর মোকদ্দমা নং- ১৬২/২০১৫ এবং পারিবারিক আদালত নং-১ ঢাকা, মামলা নং-৫১১/২০১৫।
রোকসানা সুফিয়া সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান, তার করা মামলায় ‘ তার পক্ষে সাক্ষী দেওয়ার পরও পল্লবী থানার এসআই বিল্লাল (আমার) সাক্ষী নেই মর্মে ফোরকানের পক্ষে আদালতে রিপোর্ট দেয়। ফোরকান প্রধানমন্ত্রীর সিকিউরিটি অফিসার ছিলেন। সেই পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশ দিয়ে এই রিপোর্ট আদালতে দিয়েছেন তিনি। আর এই পরিচয়ে সুযোগে ফোরকান গং শত শত মানুষকে অত্যাচার করেছে বলেও অভিযোগ করেন সুফিয়া।
অভিযোগে সুফিয়া আরও বলেন, আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা করায় ফোরকান ও জাকিয়া সুলতানা আলো আমাকে খুন ও গুম করার হুমকি দিয়ে আসছে। আর আমাদের নামে শ্বরন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ কলাতলী, কক্সবাজারে দু’টি প্লট, যার নং- ১০বি, সভ্য নং -১৮১, ব্লক নং এ এবং ১০এ, সভ্য নং-১৮০ ব্লক নং-এ প্লট ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা, ফোরকানের গ্রামের বাড়িতে আমার জিনিসপত্র এবং ২০১২ সাল থেকে মেয়েদের খরচের টাকা পেতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চাচ্ছি।’
এদিকে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে না জানিয়ে গোপনে এলাকার চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ৩২ বছরের সংসার জীবনের যে সর্বনাশ করা হয়েছে সে ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, মেয়েদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা ও পরিবারের সকলের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ফোরকান আহমেদের প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানেরা।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain