অক্টোবর ২৬, ২০১৭,৯:০৩ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥(মোঃ রাজিব তালুকদার):অর্ধেক বাঁশের সাঁকো, অর্ধেক পাকা সেতু।ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর বাজার সংলগ্ন খালের ওপর বাশের সাকো দিয়ে ঝুকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে দুটি ইউনিয়নের সাধারন পথচারীরা। প্রতিদিন জীবনের ঝুকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রামের জনসাধারন ও স্কুল কলেজ মাদ্রাসার ছাত্র–ছাত্রীরা। ৫০টি গ্রামের সংযোগ রক্ষাকারী ব্যাস্ততম ও অত্যান্ত জন গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটির নাম ভবনীপুর ভায়া চাঁদপুরা ব্রিজ।২০১৪ সনে বিষখালী নদীর তোরে অর্ধেকাংশ ধ্বসে পড়ে ।প্রায় ৫ বছর অতিবাহিত হলেও মেরামত কিংবা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নী সরকার।ফলে পারাপারের বিকল্প উপায় না থাকায় এলাকাবাসী প্রতিবছর চাঁদা তুলে সেতুটির ভেঙে পড়া অংশে বাঁশ আর সুপারি গাছ দিয়ে সাঁকো তৈরী করে বাকী অংশের সঙ্গে সংযোগ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার হচ্ছে।এতে ওই সেতুটি শতশত শিক্ষার্থীসহ দুই ইউনিয়নের শত,শত মানুষের মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার এ বিষয়ে অবহিত করা হলে ও টনক নড়েনী তাদের। এ সেতুটির উত্তর পাড়ে বিষখালী নদী ঘেসে ঝালকাঠি জেলায় আসা যাওয়ার একমাত্র ্ওই এলাকার একমাত্র বাইপাস সড়ক ও চাঁদপুরা স:প্রা:বি: এবং ডেবরা স:প্রা:বি: ও একটি মাদ্রাসা রয়েছে। দক্ষিন পাড়ে ভাবনীপুর জমজমাট বাজার,ভবানীপুর আদর্শ মা: বিদ্যালয় ও সরকারী প্রা:বি:স্বাস্থ্য কল্যান কেন্দ্র সহ বহু গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা রয়েছে। নাচনমহল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ভবানীপুর আদর্শ মা: বিদ্যালয়।এছাড়া প্রতিদিনের বাজার কেনাকাটা করতে তাদের আসতে হচ্ছে ভবানীপুর বাজারে। সেতুটির ওপর দিয়ে কোন প্রকার ইঞ্জিন চালিত এমননি রিকশা,ভ্যান পর্যন্ত চলাচল করতে পারছেনা।এ ভাবে ৫/৬ বছর ধরে ওই এলাকাবাসী সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।তবুও নজর পড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের।এব্যাপারে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সিদ্দিকুর রহমান জানান,২০১৪সনে বিষখালী নদীর পানির চাপে সেতুটির উত্তর দিকের অংশ ধসে পড়ে।কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এ যাবৎ কিছুই হয়নি। প্রতি বছরই এলাবাসীর পক্ষ থেকে চাঁদা তুলে ১০–১৫ হাজার টাকা খরচ করে সেতুটির ভেঙে পড়া অংশে বাঁশ আর সুপারি গাছ দিয়ে সাঁকো তৈরী করে বাকী অংশের সঙ্গে সংযোগ দিয়ে কোনভাবে পারাপারের ব্যবস্থা করে।যা অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা–যাওয়া করছে শত শত কোমল মতি শিশু শিক্ষার্থীরা।চাঁদপুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ: খালেক জানান,বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকোর অংশটি দিয়ে পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।ফলে ওই মৌসুমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধেকেরও বেশী শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে।এতে তাদের লেখাপড়া চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে।অভিভাবকরা এ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন রয়েছেন।এখানে নতুন সেতু হওয়া অত্যান্ত জরুরী।ওই ইউনিয়নের ৯০ বছরের এক বৃদ্ধা ও এক ব্যাবসায়ী জানান,সেতুটি মেরামত না হওয়ায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের আমরা বহুবার এ সমস্যার কথা জানিয়েছি।কিন্তু কোন কাজ হয়নি।এলাকাবাসীর নিজস্ব সহ্য়তায় প্রতিবছর হাজার হাজার টাকা খরচ করে বাঁশের সাঁকো তৈরী করে পারাপারের ব্যবস্থা করে। এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী মো: আব্দুল্লাহ–হেল বাকী জানান,প্রক্কালে আমাদের দপ্তর থেকে বহুবার উদ্বর্তন কতৃপক্ষের কাছে বার বার লিখিত ভাবে পাঠানো হয়েছে।বরাদ্ধ এলেই ব্রিজটি পূন:সংস্কার করা হবে।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain