আগস্ট ১১, ২০১৭,৭:১০ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ভারতের মুম্বাইয়ে ১২ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে এখন ২৭ সপ্তাহের গর্ভবতী। মেয়েটির পরিবার এখন দেশটির সুপ্রিম কোর্টে গর্ভপাতের জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খবর এনডিটিভির।
মেয়েটির পরিবার মুম্বাইয়ের গাইনি চিকিৎসক নিখিল দাতারের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তিনি জানান, বুধবার রাতে কিশোরীর পরিবার আমার এখানে এসেছিল। সে এখন ২৭ সপ্তাহের গর্ভবতী। মাত্র একদিন আগেও ওই কিশোরীর মা জানতেন না তার মেয়ে গর্ভবতী।
‘আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে আইনি সব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই নিবে।’ গত ২৮ জুলাই ভারতের চন্ডীগড়ে নিজের চাচার লাগাতার ধর্ষণের কারণে গর্ভবর্তী হয়ে পড়ে দশ বছরের এক শিশু। ৩২ সপ্তাহের গর্ভবতী মেয়ের গর্ভপাতের অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বাবা-মা। কিন্তু ৩২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বার জীবন বিপন্ন হতে পারে এই যুক্তিতে সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
সাধারণত, ২০ সপ্তাহের পর ভারতে কোনও অন্তঃসত্ত্বা গর্ভপাতের আইনি অধিকার পান না। কিন্তু ওই ধর্ষিতার মা, বাবা যখন তাদের মেয়ের গর্ভপাতের আর্জি জানিয়েছিলেন চন্ডীগড়ের নিম্ন আদালতে, তখন তিনি ছিলেন ২৬ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। কিন্তু শিশুর জন্ম দেয়ার জন্য ওই কিশোরী শারীরিকভাবে প্রস্তুত নন, এই যুক্তিতে নিম্ন আদালতে খারিজ হয়ে গিয়েছিল গর্ভপাতের আর্জি।
ভারতের সামগ্রিক চিত্র এমনই। ধর্ষিতা হওয়ার পরে অবাঞ্ছিত গর্ভ নষ্ট করতে চেয়ে অসংখ্য মামলা আদালতে ঝুলছে। কারণ বহু ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সময়সীমার পরে সন্তান সম্ভাবনার কথা জানতে পেরেছেন নির্যাতিতা। যদিও গত মে মাসে হরিয়ানার এক ১০ বছরের নির্যাতিতাকে তার প্রায় ২১ সপ্তাহের ভ্রূণটি নষ্ট করার অনুমতি দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।
২০১৪ সালের এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ভারতে প্রতি তিন জন ধর্ষিতার মধ্যে একজনের বয়স ১৮ বছরের কম। ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে ধর্ষক ব্যক্তি আক্রান্তের পূর্বপরিচিত। ২০১৫ সালে নাবালিকাদের ধর্ষণ বা যৌন হেনস্থার প্রায় ২০ হাজার অভিযোগ নথিবদ্ধ হয়েছে।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain