আগস্ট ৬, ২০১৭,১০:২৭ অপরাহ্ণ
bdnewstv24 : মেট্রোরেল বাস্তবায়ন কাজ আরো এক ধাপ এগিয়েছে। এবার সম্পন্ন হয়েছে মেট্রোরেলের ট্রেন সিমোলেটর, রোলিং স্টকসহ খুচরা যন্ত্রাংশ ও ডিপোর যন্ত্রপাতি কেনার চুক্তি।
রবিবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে মেট্রোরেল প্রকল্পের ‘ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬ কন্ট্র্যাক্ট প্যাকেজ-০৮’ শীর্ষক এ চুক্তি সই হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি মেট্রোরেল প্রকল্পে সহযোগিতা করার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানান।
এই প্যাকেজে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমএমটিসিএল) সঙ্গে জাপানের কাওয়াসাকি মিতসুবিসি কনসর্টিয়ামের চার হাজার ২৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকার ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে মেট্রোরেলকে স্বপ্নের প্রকল্প আখ্যা দিয়ে সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের বলেন, মেট্রোরেল বাস্তবায়নের সুবিধার জন্য প্রকল্পটি ৮টি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। আজ ৮ নম্বর প্যাকেজের চুক্তি সই হলো।
এই চুক্তির আওতা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘রোলিং স্টক ও ট্রেন সিমুলেটর ক্রয়, রোলিং স্টক পরিচালনা ও সংরক্ষণের জন্য ডিপোর যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয় এবং রোলিং স্টক প্রকৌশলী, পরিচালনা ও সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এ্ প্যাকেজে।’
হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনার পর প্রকল্পের কাজে বিঘ্ন হলেও নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সেতুমন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওই হামলার ঘটনার পর মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। প্রায় আট মাসের মতো পিছিয়ে গেছি আমরা। তবে এখন পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের টাকার কোন সমস্যা নেই। যথাসময়ে এর নির্মাণকাজ শেষ হবে।’
মেট্রোরেল প্রকল্পের আটটি প্যাকেজের মধ্যে আর তিনটি প্যাকেজের চুক্তি বাকি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মাণের ৪-৫ নম্বর প্যাকেজ। আর ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল কাজের ৭ নম্বর প্যাকেজ।
প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ধরা হলেও বিশেষ উদ্যোগে ২০১৯ সালে উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এবং ২০২০ সালে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, মেট্রোরেলে পাচঁ মিনিট অন্তর ট্রেন পাওয়া যাবে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল পথের ২০.১০ কিলোমিটার যেতে সময় লাগবে ৩৮ মিনিট। প্র্রতি ট্রেনে যাত্রী ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৭৩৮ জন।
২০২১ সালে পিক আওয়ারে প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিকে ২২ হাজার ৫৩০ জন যাত্রী পরিবহন করবে মেট্রোরেল। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালে ২৫ হাজার ৫৬০ জন এবং ২০৫১ সালে ৬০ হাজার ৯৭৯ যাত্রী পরিবহন করা যাবে।
উত্তরা উত্তর থেকে যাত্রা করে মতিঝিল পর্যন্ত পথের মধ্যে আরও ১৪টি স্টেশনে থামবে ট্রেন। সেগুলো হলো উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ সচিবালয়। শুরু ও শেষ মিলিয়ে মোট স্টেশন ১৬টি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষে জানানো হয়, ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর একনেকে মেট্রোরেল প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকার ৫ হাজার ৩৯০.৪৮ কোটি ও জাপানি সংস্থা জাইকা দেবে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ডিএমআরটিডিপি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্প এটি।
স্টেশন ও ভায়াডাক্ট-এর কারিগরি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে প্রকল্প বাস্তবায়নকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়-
স্বয়ংক্রিয় ভাড়া সংগ্রহ পদ্ধতির টিকেট থাকবে। প্লাটফর্মের নিরাপত্তায় থাকবে প্ল্যাটফর্ম স্কিন ডোর ব্যবস্থা। প্লাটফর্মের দৈর্ঘ্য হবে ১৮০ মিটার। সিঁড়িসহ চলন্ত সিঁড়ির ব্যবস্থা থাকবে কনফোর্স এবং কনকোর্স লেভেল থেকে প্লাটফর্ম পর্যন্ত।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাজমুল হক প্রধান, জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাতোশি নিশিকাতা, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফতাব উদ্দিন তালুকদার, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন সিদ্দিক প্রমুখ।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain