মে ২২, ২০১৭,১১:২৩ অপরাহ্ণ
স্টাফ রিপোর্টার : চলতি গ্রীষ্মের প্রথম মাস বৈশাখ ছিল অস্বাভাবিক শীতল। স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বৃষ্টি ওই মাসে গরমের অনুভূতি তেমন একটা বোঝাতে দেয়নি মানুষকে। তবে চলতি মে মাসে গরমের কারণে পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে অসহনীয়।
আজ সোমবার রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এত বেশি গরম চলতি বছর পড়েনি এর আগে। রাজধানীর মত চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও রেকর্ড হয়েছে আজ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে সবচেয়ে বেশি গরম পড়েছে খুলনায় ৪০.৭ ডিগ্রি।
এই ব্যাপারে আবহাওয়া কর্মকর্তা বজলুর রশীদ ঢাকাটাইমসকে যে তথ্য দিয়েছেন, সেটা দেশবাসীর জন্য আরও উদ্বেগজনকই বটে। তিনি বলেন, ‘আগামী চার থেকে পাঁচদিনের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এই সময়ে তাপমাত্রা আরও বাড়বে।’
বজলুর রশীদ জানান, চলতি বছর দেশে শীত এসেছিল একটু দেরিতে। যার ঢাক্কাটা সামলাতে হচ্ছে এই সময়ে। তিনি বলেন, ‘গত বছর আমাদের দেশে শীত কিছুটা দেরি করে এসেছিল। এর প্রভাবে এই বছর যখন গরম শুরু হওয়ার কথা এর বেশ কিছুদিন পর গরম শুরু হয়েছিল। আবহাওয়ার মতে এই গরম গত মাসে কিংবা চৈত্রে পড়ার কথা ছিল। কিন্তু দেরি করে আসার ফলে বৈশাখের গরমটা জৈষ্ঠে এসে অনুভূত হচ্ছে। এটি অস্বাভাবিকের কিছু নয়।’
গত কয়েক দিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গরম সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়। স্কেলে পারদ ৩৬ ডিগ্রিতেই এই হাঁসফাঁস পরিস্থিতি নিয়েও কথা হচ্ছে ফেসবুকে।
আবহাওয়াবিদরা জানান, তাপমাত্রা যাই থাকুক না কেন, ঢাকায় পর্যাপ্ত খোলা জায়গার অভাব, অপর্যাপ্ত বৃক্ষ, সড়কের পিচের গরমের পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে বের হওয়া গরম বাতাস যুক্ত হয়ে বাড়াচ্ছে গরমের অনুভূতি।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ জানান, এই সমস্যাগুলো না থাকলে আজ ঢাকার স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৩.১ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতো। সেখানে সেই তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়িাস।
এই আবহাওয়া কর্মকর্তা জানান, ‘বেশ কয়েকদিন ধরে ঢাকার উপর দিয়ে হালকা থেকে মাঝারি তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে। অন্যদিক দিয়ে বৃষ্টির দেখা নেই। আর এইবার বাংলাদেশের উপর দিয়ে তীর্যকভাবে সূর্যের আলো পড়ছে। এটাও স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা চেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ার একটি কারণ।’
এই ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক সহিদ আকতার হুসাইন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ঢাকার সাথে ঢাকার বাইরের তাপমাত্রার পার্থক্য করলে হবে না। ঢাকায় দিনের পর দিন গাছের সংখ্যা কমে আসছে। যার কারণে বাড়ছে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা। এটির কারণে মধ্য আকাশে ঠান্ডা কমে গিয়ে বাড়ছে গরমের মাত্রা। ঢাকায় গাছের সংকট সেই সাথে বাড়ছে এসির সংখ্যা। এর কারণে বিকিরিত গরম বের হয়ে কার্বণ ডাই অক্সাইডকে ভারী করে দিচ্ছে। এই কারণে যতটুকুই বা ঠান্ডা বাতাস আছে তা পুরো ঢাকাকে কভার করতে পারছে না।’
অধ্যাপক সহিদ বলেন, ‘ধরুণ ঢাকার তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি। সেই সাথে সুনামগঞ্জের কোনো একটি গ্রামে তাপমাত্রাও ৩৫ ডিগ্রি। তবে এই দুই জায়গার তাপমাত্রার অনুভূতি একই হবে না। গ্রামাঞ্চল মানেই গাছে গাছে পরিপূর্ণ। যা আবহাওয়াকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। সেই কারণেই সেখানে তাপমাত্রা বেশি থাকলের কম অনুভূত হয়ে থাকে। এর জন্য প্রয়োজন ঢাকায় বেশি করে গাছ লাগানো আর এসির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনা। এই দুটো কাজ করতে পারলে ঢাকায় গরমের মাত্রা অনেকটাই কমে আসবে।’
এদিকে আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি হতে পারে। এর সাথে কোথাও কোথাও বজ্র ও শিলা বৃষ্টিও হতে পারে। এর পাশাপাশি ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain