এপ্রিল ২৭, ২০১৭,১১:১৬ অপরাহ্ণ
স্টাফ রিপোর্টার : হাওরের এই দুর্যোগের সময় হাওর ও পানি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ নয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিদেশ অবস্থানের কথা স্বীকার করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তবে তিনি দাবি করেছেন, তাদের অনুপস্থিতির কারণে কোনো সিদ্ধান্ত আটকে নেই।
বৃহস্পতিবার মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে একটি সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি হাওরের বর্তমান অবস্থাকে দুর্যোগ বলে অভিহিত করেন।
ওই নয় কর্মকর্তার বিদেশ অবস্থান নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, তাদের অনুপস্থিতির কারণে হাওরসংক্রান্ত অনেক সিদ্ধান্ত আটকে আছে।
জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মজিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট নয়জন কর্মকর্তা কানাডা গেছেন। এখনো তারা সেখানেই অবস্থান করছেন।
আনিসুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের (৯ কর্মকর্তা) বিদেশে যাওয়ার জন্য কোনো ডিসিশন আটকে নাই। এটা সম্পূর আসত্য।’ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এ বাঁধগুলো রক্ষণাবেক্ষণসহ বাঁধের সব কাজ ওয়াটার বোর্ড করে। আমাদের হাওর বোর্ডকে এখন হাওর অধিদপ্তর করা হয়েছে। তাদের কাজের সঙ্গে বর্তমান হাওরে যে সমস্যা চলছে, এর সম্পৃক্ততা নেই।’
হাওড়ের বর্তমান অবস্থার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যর্থতা আছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘বৃষ্টি হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যর্থতা কেন হবে। ১১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চার দিনে। বাঁধের ওপর দিযে যদি পানি চলে যায় সেটা তো আমার করার কিছু নেই।’
কদিন ধরেই মন্ত্রী দাবি করে আসছেন, বাঁধের চেয়ে পানির উচ্চতা বেশি হওয়ায় ভেসে গেছে হাওর। আজও তিনি সেই দাবি করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, সাধারণত এ সময় এত বৃষ্টি হয় না। গত মার্চের ২৯ তারিখ হাওর এলাকায় পানির (লেবেল) উচ্চতা ২.৪৭ মিটার ছিল। কিন্তু এরপর টানা বৃষ্টিতে মাত্র চার দিনের মধ্যে পানির উচ্চতা বেড়ে ৭.১৭ মিটার হয়। আর আমাদের বাঁধের উচ্চতা ৬.৫ মিটার। এর ফলে বাঁধ উপচে পানি ঢুকে যায়।
২৭ মার্চ থেকে আগাম বন্যায় প্লাবিত হতে থাকে দেশের হাওর অঞ্চল। পানির তোড়ে ভেঙে যায় একের পর এক বাঁধ। গেল এক সপ্তাহে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে হাওরাঞ্চলের ছয় জেলা। এতে হাওরে মোট এক লাখ ৪১ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। হাওরের এই বিপর্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়নের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিদেশে থাকা নিয়ে সমালোচনা করছেন অনেকে।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain