এপ্রিল ১৬, ২০১৭,৮:৫৪ অপরাহ্ণ
বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম: রীয়া আইন ছাড়া ভারতের কেউ যদি তার স্ত্রীকে তিন তালাক প্রদান করে তাকে সামাজিকভাবে বর্জন করা হবে বলে জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড(এআইএমএলপিবি)। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
রবিবার এআইএমএলপিবি আরও জানায়, ‘তিন তালাকের বিষয়ে ভুল বুঝাবুঝি রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে একটি আচরণ বিধি তৈরি করব।’
ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে তিন তালাক প্রথার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে একটি মামলা চলছে। ইসলাম ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী কিছু মুসলিম তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে তিন ‘তালাক’ উচ্চারণ করে থাকে।
গতকাল শনিবার এআইএমএলপিবি কার্যকরী কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে বিষয়ে শরীয়তে বা ইসলামিক আইনে বলা আছে সেই বিষয়ে কোনো ধরনের ‘বাইরের হস্তক্ষেপ’র অনুমতি দেয়া হবে না। বিশেষ করে সেটা যদি হয় বিবাহ বিচ্ছেদের মতো কোনো মৌলিক অধিকারের বিষয়ে।
তবে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড কর্তৃপক্ষ তিন তালাকের ব্যবহারের প্রথাটি যেন একেবারেই কমে আসে তার জন্য একটি কৌশল অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৌখিক তালাক থেকে বিরত রাখতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে বর্জন করতে হবে এবং যথেচ্ছাপূর্বক এর ব্যবহার করলে জরিমানা করা হবে।
এআইএমএলপিবি’র পক্ষ থেকে মাওলানা খালিদ আর ফিরাঙ্গি বলেন, ‘নির্বাহী পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে কেউ যদি তিন তালাক প্রথার অপব্যবহার করেন তাকে সামাজিকভাবে বর্জন করা হবে।’
সুপ্রিমের কোর্টের মামলায় সংগঠনটির বিপক্ষে কয়েকটি এনজিও’র বক্তব্য তিন তালাক প্রথা লিঙ্গ সমতার অধিকারের লঙ্ঘন।
তবে এ ব্যাপারে এআইএমএলপিবি ও অন্যান্য আলেমদের বক্তব্য, তিন তালাক কোরানের বিধান এবং মুসলিম পারসোনাল ল এর অংশ। এই কারণে এর থেকে বিচ্যুতি মানে বিচার বিভাগের বাইরে যাওয়া। আর এই প্রথাকে অসংবিধানিক ঘোষণা মানে ‘পুনরায় কোরান লেখা’র সমান।
গত বছরের ডিসেম্বরে উত্তরে প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট তিন তালাক প্রথাকে সংবিধানে দেয়া নারীর অধিকারের লঙ্ঘন ঘোষণা একটি রায় দিয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ১১-১৯ মে পর্যন্ত তিন তালাকের বৈধতার ওপর শুনানিন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain