এপ্রিল ১৬, ২০১৭,৮:৪৫ অপরাহ্ণ
বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম: মোঃ সোহাগ হোসেন: কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রীক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের পর স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতের সঙ্গেও আওয়ামী লীগ আলোচনায় বসবে বলে দাবি করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দিতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন তিনি। অন্যদিকে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী জাফরুল্লাহ চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য অপসারণে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।
রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘জাতীয় নির্বাচন: নির্বাচন কালীন সরকার গঠনে নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় এই দুইজন এসব কথা বলেন। বিএনপি-জামায়াতপন্থী সংগঠন ‘আদর্শ নাগরিক’ এই আলোচনার আয়োজন করে।
এই আলোচনায় আগামী সংসদ নির্বাচন কীভাবে কার অধীকে হবে এই বিষয়টির পাশাপাশি উঠে আসে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেয়ার বিষয়টি নিয়েও কথা হয়। গত ১০ এপ্রিল হেফাজতের আমির ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারাসিল আরাবিয়ার চেয়ারম্যান আহমেদ শাহ শফীর নেতৃত্বে আলেমদের সঙ্গে গণভবনে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। এই বৈঠকেই কওমি সনদের স্বীকৃতির ঘোষণা আসে। পাশাপাশি হেফাজতের দাবি মেনে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য অপসারণে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনার কথা দেন তিনি।
বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে মন্তব্য করে বিকল্পধারার সভাপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে নিজেদের পক্ষে ভোট টানার জন্য তারা যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। অদূর ভবিষ্যতে হেফাজত ছাড়া জামায়াত এবং আরও যারা আছে, তাদের সাথেও প্রকাশ্যে-গোপনে আলোচনা সেরে ফেলবেন।’
সেমিনারে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ও গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ আরবিস্থান বানিয়ে দিলেন বাংলাদেশকে। তিনি বলেন, ‘ইসলামের ব্যাপারে ওনি (প্রধানমন্ত্রী) আদি ইসলাম প্রচারে নেমে গেলেন। কিন্তু ইসলাম তো পরিবর্তনের, শান্তির ধর্ম, সংস্কারের ধর্ম।’ তিনি বলেন, ‘ওনি ঘোষণা করে দিলেন হাইকোর্টর সামনে ভাস্কর্য থাকবে না। মসজিদও তো সবচেয়ে বড় ভাস্কর্য। বিভিন্ন ইসলামী দেশেও সুন্দর সুন্দর ভাস্কর্য্য রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘ওনি ভুল জায়গায় পা দিয়েছেন। এখন সব মুর্তি অপসারণ করতে হবে, চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে বঙ্গবন্ধুর যে ভাস্কর্য, ওইটার কী হবে?’ তিনি বলেন, ‘অন্যের বাড়িতে আগুন দিতে গেলে, নিজের ঘরেও আগুন লাগতে পারে এবং সেটা ভয়ানক।’
বিএনপিপন্থী এই বুদ্ধিজীবী বলেন, ‘দাওরাকে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দিলে ক্ষতি নাই। তবে তাদেরকে বিজ্ঞান ও গণিত পড়তে হবে। বিজ্ঞান পড়া কি ক্ষতির কাজ? কোরআন, হাদিসের সাথে বিজ্ঞান পড়া কি অন্যায় হবে? পাশাপাশি ইংরেজিও পড়ানো হোক।’
ভোট টানতে সরকার হেফাজতের সঙ্গে সমোঝতা করেছে বলে দাবি করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘হেফাজতের সাথে সরকারের বেশ একটা ভালো সম্পর্ক। সবাই বলছে ভোটের দরকার। আওয়ামী লীগ যে অনাচার করেছিল ৫ জানুয়ারিতে, সেইটা আরেকবার করবে।’
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না করলে দেশে জঙ্গিবাদ বেড়ে যাবে উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘দেশে অগণতান্ত্রিক শক্তি, কালো শক্তি মাথা শুধু চাড়াই দেবে না, সরাসরি সিংহের মত দাড়িয়ে যাবে।
শেখ হাসিনাকে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনরে সম্ভব নয় উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে, শেখ হাসিনার অধীনে নিরপেক্ষ নিরর্বাচন আশা করা, কাঠের গাইয়ের কাছে দুধ আশা করার মত।’
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain