এপ্রিল ২, ২০১৭,১:৫৯ অপরাহ্ণ
বিডি নিউজ টিভি ২৪. কম:
গণজাগরণের কর্মী ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়ে বিচারিক আদালত রায় হুবহু বহাল রেখে হাইকোর্টের রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন তার বাবা নাজিম উদ্দিন। বিচারিক আদালত যে ছয় জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে, তাদেরও সর্বোচ্চ সাজা আশা করেছিলেন রাজীবের বাবা। তিনি বলেন, তিনি বলেন, তার ছেলেকে যারা খুন করেছে তারা জঙ্গি। তাদের কেন সর্বোচ্চ সাজা হবে না।
রবিবার হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণার পর রাজীবের বাবা তার প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘আমি এই রায় প্রত্যাখ্যান করলাম। আমার সন্তানকে যারা মেরেছে তারা প্রমাণিত সন্ত্রাসী, শিক্ষিত সন্ত্রাসী। কিন্তু তাদের সর্বোচ্চ সাজা হয়নি। জঙ্গিদের যদি সর্বোচ্চ সাজা না দেয়া হয়, তাহলে আপনি বুঝতে পারেন সমাজের কি অবস্থা।’
রাজীবের বাবা বলেন, ‘সরকার বলে, তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থান নিয়েছে। ওদেরকে ছাড় দেবে না। কিন্তু আদালতে এসে তার প্রমাণ পাইনি।’
সাজা বাড়ানোর দাবিতে আপিল করার কথাও বলেছেন রাজীবের বাবা। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার যতটুকু সুযোগ আছে সেটুকু করবো।’
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে উঠা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের মধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবীতে নিজের বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাজীবকে। তিনি ওই আন্দোলনের একজন সংগঠক ছিলেন।
রাজীব হত্যার পর জানা যায়, অনলাইনে ধর্মান্ধতা নিয়ে লেখনীর কারণে এই তরুণকে খুন করা হয়েছে। রাজীবের বাবার মামলার পর তদন্তেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। জানা যায়, উগ্রপন্থি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দিন রাহমানীর বয়ানে উদ্বুদ্ধ হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কয়েকজন ছাত্র রাজীবকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহম্মেদ এই মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পাঁচ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। এদের মধ্যে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধানকে দেয়া হয় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।
এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল হয়। আর রাজীবের বাবা করেন সাজা বাড়ানোর আবেদন। কিন্তু উচ্চ আদালত বিচারিক আদালতের রায় হুবহু বহাল রাখে। রাজীবের বাবা সাজা বাড়ানোর আবেদন করলেও তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না আদালতে। এ কারণ দেখিয়েই তার আবেদনটি বিবেচনায় আনা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজীবের বাবা বলেন, ‘আমি তো নিজেই আবেদন করেছি, এটা আদালত দেখবে। আইনজীবীরা কি সবকিছুই করতে পারে? আদালতের একটু অজুহাত।’
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain