মার্চ ২০, ২০১৭,৯:২২ অপরাহ্ণ
বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম: মো: সোহাগ হোসেন: বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নকে অস্ত্র দিয়ে দমনের চেষ্টায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে গণহত্যা শুরুর দিনটিকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে মন্ত্রিসভা। আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালনে কাজ করবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।
সচিব বলেন, ‘২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের বিষয়টি ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। মন্ত্রিসভা এটিকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।’
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। অপারেশন সার্চ লাইট নামে চালানো হয় এই গণহত্যা। ফুটপাতের মানুষের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবাসগুলোতেও চালানো হয় নির্মম গণহত্যা। আক্রমণ করা হয় রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে। পুলিশ বাহিনী তাদের হালকা অস্ত্র দিয়ে ঠেকাতে পারেনি সেনাদেরকে।
এরপর বাঙালি পাল্টা অস্ত্র তুলে নিলেও পরের নয় মাসজুড়ে দেশজুড়ে চলে গণহত্যা। সব মিলিয়ে প্রাণ হারায় আনুমানিক ৩০ লাখ মানুষ। অত্যাচার, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ আর ধর্ষণ; সাড়ে তিন লাখের বেশি নারী নির্যাতিত হয় সে সময়। শহরের পাশাপাশি দূর গ্রামের মানুষরাও এসব নির্যাতন থেকে বাঁচতে পারেনি।
পাকিস্তান থেকে আসা সেনারা ছাড়াও বাংলাদেশেরই মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী গড়ে তোলে চালায় হত্যাযজ্ঞ।
২৫ মার্চ গণহত্যা শুরুর পর এই দেশ থেকে বিদেশি সাংবাদিকদেরকে বের করে দেয়া হয় এই অঞ্চল থেকে। তারপরও কিছু সাংবাদিক লুকিয়ে এসব গণহত্যার কিছু চিত্র তুলে ধরেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে।
এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ থেকে প্রাণে বাঁচতে প্রায় এক কোটি মানুষ আশ্রয় নেয় ভারতে। আর নয় মাসের সংগ্রাম শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ডের আছে ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে আত্মসমর্পণের জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশের।
পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর দিনটিকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনে গত ১১ মার্চ সংসদে প্রস্তাব আনেন জাসদ নেত্রী শিরীন আখতার। একই দিন সংসদ এই প্রস্তাব অনুমোদন করে।
এবছর থেকেই এ দিবসটি পালন শুরু হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি সেটি বলতে পারবো না। এবছর পালন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রস্তুত কি না সেটা আমি জানি না।’
সচিব বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পালনের লক্ষ্যে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।’
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain