মার্চ ১৭, ২০১৭,১১:৩৪ অপরাহ্ণ
বিশেষ প্রতিনিধি : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অফ অনার দেয়। শেখ হাসিনা এরপর আওয়ামী লীগের প্রধান হিসাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী চলে গেলে বঙ্গবন্ধু ভবন সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। জাতির জনকের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভোরে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলটির সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার পর প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও পরে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন; তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার দেয়। শেখ হাসিনা পরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আরও ছিলেন শওকত আলী, ফারুক খান, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, শেখ হেলাল উদ্দিন ও আবদুস সোবহান গোলাপ। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো.শফিউল আলম, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ফাতেহা পাঠ করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাতে দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। রাষ্ট্রপতি সমাধি কমপ্লেক্সের পরিদর্শন বইতেও স্বাক্ষর করেন। সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রাষ্ট্রপতিকে বঙ্গবন্ধুর ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইটি উপহার দেন শেখ হাসিনা। দিনটি উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা এবং গ্রন্থমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। বেলা পৌনে ১২টায় প্রধানমন্ত্রী বইমেলার উদ্বোধন করেন এবং ‘খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। বিকাল সাড়ে ৩টায় শিশু সমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন তিনি। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করেছে। সরকারিভাবেও নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট এক দল সেনা কর্মকর্তার হাতে নিজ বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন তিনি। জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুর অবদান স্মরণ করে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের চিরন্তন প্রেরণার উৎস। তার কর্ম ও আদর্শ আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে চিরকাল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা অভিহিত করে তিনি বলেন, বাঙালির অধিকারের প্রশ্নে তিনি কখনো আপোশ করেননি। পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্ব এবং সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব সমগ্র জাতিকে একসূত্রে গ্রথিত করেছিল। যার ফলে আমরা পেয়েছি স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ। বিকাশ ঘটেছে বাঙালি জাতিসত্তার। বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালি জাতিরই নয়, তিনি ছিলেন বিশ্বের সকল নিপীড়িত-শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায় ও মুক্তির অগ্রনায়ক। জাতির জনকের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় টিএসসি মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই স্থানে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের আয়োজনে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দিবসটি উপলক্ষে সকাল পৌনে ৯টা থেকে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি আয়োজন এবং বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা দেয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলা একাডেমির বটতলায় আয়োজন করা হয় শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনো’। এরপর বিকাল ৪টায় একাডেমির নজরুল মঞ্চে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একক বক্তৃতা দেন সাংবাদিক ও লেখক সৈয়দ বদরুল আহসান। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বিকাল ৫টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে ‘মহাপুরুষের অন্তর্ধান: ছহী শহীদ মুজিবনামা’ শীর্ষক পটের গানের আয়োজন করে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। লোকজ শিল্পরীতিতে পটের গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন কবি, লেখক ও গবেষক ড. এনামুল হক। শম্ভু আচার্য এঁকেছেন পটচিত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু উৎসব’ আয়োজন করে বাঙালি সাংস্কৃতিক জোট। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় অনুষদের বকুলতলায় উৎসব উদ্বোধনের পর প্রথম পর্বে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ বিষয়ক শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিকাল ৩টায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠানমালার শুরুতে ছিল শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। সকাল ১১টায় লিয়াকত আলী লাকীর পরিকল্পনা গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় নাটক ‘মুজিব মানে মুক্তি’র পরে পরিবেশিত হয় অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী। বিকালের পর্বে শিশুতোষ অনুষ্ঠানের পরে প্রদর্শিত হয় শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘দ্য সুজ’, ‘মাটির পাখি,’ ‘মন ফড়িং,’ ‘রক্তজবা’ ও ‘মাধো’। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে স্টার সিনেপ্লেক্সে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ত্রিমাত্রিক ভিডিওচিত্র ‘পিতা’ বিনামূল্যে প্রদর্শন করা হয়। জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ’৭৫ এর ১৫ অগাস্ট তার সঙ্গে শাহাদতবরণকারী পরিবারের সদস্যদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। টুঙ্গিপাড়ায় এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া শেখ মুজিবুর রহমান স্কুল জীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কৈশোরে তার রাজনীতির দীক্ষাগুরু ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে প্রথমবারের মতো কারাবরণ করেন শেখ মুজিব। ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকসহ তৎকালীন প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাদের সান্নিধ্যে আসেন শেখ মুজিব। ওই সময় থেকেই নিজেকে ছাত্র-যুবনেতা হিসেবে রাজনীতির অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেন, যোগ দেন আওয়ামী মুসলিম লীগে, যা পরে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে আওয়ামী লীগ নাম নেয়। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত তিনি বারবার কারারুদ্ধ হন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন জনদাবি আদায়ের আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ মুজিব। বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বারবার কারাগারে যেতে হতে হয়েছে শেখ মুজিবকে। আর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে নিয়ে যায় বাঙালির নেতৃত্বে। আওয়ামী লীগপ্রধান হিসেবে ’৬৬-এ ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন তিনি, যার ফলে ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারারুদ্ধ হতে হয় তাকে। ’৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়। ’৭০-এর নির্বাচনে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের ম্যান্ডেট লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির এ নির্বাচনী বিজয়কে মেনে নেয়নি। এরপর বঙ্গবন্ধু স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রথমে স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ দেন। ’৭১-এর মার্চে শুরু করেন অসহযোগ আন্দোলন। ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে তার ঘোষণা ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বাঙালিকে স্বাধীনতা আন্দোলনের পথে ধাবিত করে। ’৭১-এর ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ শুরু করার পর সে রাতেই বন্দি হন শেখ মুজিব। তবে তার আগে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে কারা অন্তরীণ থাকলেও তার নামেই যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে বাঙালি। মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতিও ছিলেন তিনি। অন্যদিকে স্বাধীনতা ঘোষণা ও বিদ্রোহের অভিযোগ এনে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে গোপন বিচারের নামে প্রহসন শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় আসে। এরপর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান বঙ্গবন্ধু। ’৭২-এর ১০ জানুয়ারি স্বাধীন ভূমিতে পা রাখেন তিনি। সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের দায়িত্বভার নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেন, গঠন করেন বাকশাল; যার ফলে দেশে অন্য সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়, চারটি সংবাদপত্র ছাড়া অন্য সব সংবাদপত্রও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার কিছু দিনের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট এক দল কুখ্যাত সেনা কর্মকর্তার হাতে নিজ বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain