জানুয়ারি ২৪, ২০১৭,৯:৫৫ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম থেকে মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম: চট্টগ্রাম ইপিজেড থানাধীন আলীশাহ নগর বন্দরটিলা কাঁচা বাজারের পিছনে প্রকাশ নাহিদ ভিলার পাশে ৩০১/ইদ্রিস ভবন এর ৩য় তলায় ১নং রুমের ভিতরে বেলকনীর গ্রীলের সাথে থাকা মিস শাপলা আক্তার মালা (২০) এর অর্ধ ঝুলন্ত একটি লাশ ইপিজেট থানার এসআই আবদুল মোতালেব উদ্ধার করেন। গত সোমবার ২৩/০১/২০১৭ইং আনুমানিক সকাল ১০টার সময় বন্দরটিলা এলাকার ভাড়া বাসা ইদ্রিছ আলী ভবনের ৩য় তলার ১নং রুম বেলকনী থেকে একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। বাড়িওয়ালা মোহাম্মদ ইদ্রিছ আলীর জবানবন্দী অনুযায়ী মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম মধু, পিতা-মোঃ শাহজাহান মিয়া, গ্রাম- ইউনুছপুর, ডাকঘর- বালাঘাট, থানা- সুনামগঞ্জ, শাপলা আক্তার মালার স্বামী। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায় মোঃ কামরুল হাসান (মধু) ও শাপলা আক্তার মালার মধ্যে প্রেম ঘটিত বিয়ে হয়। বেশ কিছুদিন যাবত একত্রিত হয়ে টিটাগাং ফ্যাশন নামক তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত ছিল। ভবনের ইনচার্জ মোঃ রুবেল আলী, পিতা- মৃত মোসলেম আলী সর্দার, গ্রাম- হাতিয়া দাহ, ডাকঘর- ঐ, থানা- সিংড়া, জেলা- নাটোর বিডি নিউজ ২৪ ডট কম কে জানান গত প্রায় ৪৫ দিন আগে শাপলা আক্তার মালার স্বামী মোঃ কামরুল হাসান (মধু) বাড়ীতে চলে গিয়েছে। এখন পর্যন্ত বাড়ী থেকে আসেনি। শাপলা আক্তার মালার বাড়ীতে মৃত্যুর খবর দেওয়ার জন্য নাগরিক পরিচিতিতে থাকা তাহার স্বামীর মোবাইল নং এ কল করি। কল রিসিভ করেনি তাহার স্বামী। তিনি আরো বলেন হঠাৎ করে গত ২২/০১/২০১৭ রোজ রবিবার আনুমানিক রাত ৯টার সময় তাহার পাশের রুমে বেড়াতে আসা নাসিমা বেগম, শাপলা আক্তার মালাকে তার রুমে ঘুমানোর জন্য ডাকাডাকি করে। দরজা ধাক্কা ধাক্কি করে তখন কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। পরে জার রুমের মেহমান তার রুমে কষ্ট করে রাত কাটায়। আনুমানিক সকাল ৭টার সময় ফ্লাটের ঐ মেহমান ও অন্যান্য লোকসহ দরজা ধাক্কা দিলে এক পর্যায়ে দরজা খুলে যায়। তখনি সকলে মিলে রুমের মধ্যে ঢুকে রুমের পাশে বেলকনির গ্রিলের সাথে সাপলা আক্তারকে অর্ধ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তখনি বিল্ডিং মালিক মোঃ ইদ্রিছ আলী পিতা মৃত নুরুল আলম কে খবর দেওয়া হয়। তৎক্ষনাৎ বিল্ডিং এর মালিক ইপিজেড থানায় গিয়ে সংবাদ দেন। বিল্ডিং এর মালিক ইদ্রিছ আলী বিডি নিউজ ২৪ ডটকমকে জানান পাশের রুমের মেহমান নাসিমা বেগম ২১/০১/২০১৭ রোজ শনিবার রাতে ভিকটিমের রুমে একত্রে ছিল। ২২/০১/২০১৭ তারিখ রাত ৯টার পর আর কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। ডাকাডাকি করে দরজা না খোলায় নাসিমা বেগম তাহার আত্মীয়ের রুমে চলে যায়। ২৩/০১/২০১৭ তারিখ সকাল ০৭টার সময় ফ্লাটের ঐ মেহমান অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে করে দরজা ধাক্কা দিলে এবং শাপলা নাম ধরে ডাকাডাকি করে পরে দরজা জোরে ধাক্কা দিতেই নাকি দরজা খুলে যায়। পরে তিনি আরো বলেন সকলে মিলে দরজা ধাক্কাইতে গেলে হঠাৎ করে দরজা খুলে গেছে। তাহার এ বক্তব্য কেমন জানি রহস্য রহস্যজনক বলে মনে হয়। তাহার মুখের জবান বন্দি অনুযায়ী তাহাদের কথা আর অর্ধ জুলন্ত অবস্থার লাশের ছবি তোলা সকল তথ্যাবলি আমাদের হাতে আছে। এ বিষয়ে ইপিজেড থানার এসআই মোহাম্মদ মোতালেব জানান। থানায় সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার বাবাকে খবর দিযে আনা হয়েছে, পরে তার বাবাসহ পোস্টমর্টেম করে লাশ তার বাবার হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমুহুর্তে আর কিছু জানা যায়নি। পুলিশ এখনো কাউকে সন্দেহের চোখে দেখেননি। কিন্তু এলাকাবাসী মনে করে এটি কোন আত্মহত্যার ঘটনা নয়। ঐ বাড়ির বাড়িওয়ালা মোহাম্মদ ইদ্রিছ আলীর দিকে এলাকাবাসী সন্দেহের তীর ছুঁড়ছেন।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain