জানুয়ারি ৪, ২০১৭,৯:৫৯ অপরাহ্ণ
স্টাফ রিপোর্টার : অনুপ্রবেশকারী ও পরগাছারাই ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজয় বাংলার পাদদেশে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। শিক্ষার্থীদের গণতন্ত্র চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংসদ নির্বাচন দিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যদি ছাত্রসংসদ সক্রিয় থাকত তাহলে ২৫ বছরে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ২৫ জন নেতা তৈরি হতো। শৃঙ্খলা বজায় থাকত। ছাত্রলীগের উদ্দেশে ওবায়দুল বলেন, ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী ও পরগাছারাই ছাত্রলীগ তথা শেখ হাসিনা সরকারকে বিতর্কিত করছে। তাদের চিহ্নিত করে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করতে হবে। সেই সঙ্গে ছাত্রলীগ যেন কোনো বিশেষ ব্যক্তিদের হাতিয়ার বা পকেট কমিটি না হয়ে উঠে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের শিক্ষা, আচরণ, সাংগঠনিক যোগ্যতা ও কর্ম দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে আদর্শ হয়ে উঠতে হবে। তরুণ প্রজন্মের কাছে জাতির জনকের যোগ্য উত্তরসূরী সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও টিউলিপ সিদ্দিকীর মতো অনুকরণীয় হতে হবে, বলেন ওবায়দুল। ছাত্রলীগকে পরগাছা মুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাদের বলেন, ২০১৭ সালের অঙ্গীকার হবে, অনুপ্রবেশকারী, পরগাছামুক্ত ছাত্রলীগ। এই অনুপ্রবেশকারী, পরগাছারাই ছাত্রলীগের এগিয়ে যাবার পথে প্রধান বাধা। এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। নিয়মিত ছাত্রদের সংগঠনের কমিটিতে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এই ধারা শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালনকে ‘অশুভ প্রবণতা’ আখ্যায়িত করে এ ধরনের কর্মকা- বন্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আজকে কোথাও কোথাও, কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। এটা অশুভ প্রবণতা। এটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের জন্য চরম ব্যর্থতা। যদি অভ্যন্তরীন কোনো গেঞ্জামের জন্য ক্যম্পাসের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়, এর জন্য আমাদের সাংগঠনিক ব্যবস্থা আছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা আছে, যেই ব্যক্তিদের জন্য এই সমস্যা সৃষ্টি হবে, তাকে পুলিশে সোপর্দ করতে হবে, কিন্তু এই অজুহাতের জন্য একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালে জন্য বন্ধ করে দেওয়া, শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাজ নয়। তিনি বলেন, আমি পরিষ্কার বলতে চাই, এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, কথায় কথায় ধর্মঘট। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট যেমন চলবে না, তেমনি অনির্দিষ্টকাল কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা চলবে না। এটা যারা করে এটা তাদের ব্যর্থতা দেশভাগের পর ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে জন্ম নেওয়া ছাত্রলীগ ঊনসত্তর বছর পূর্ণ করলো। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এর নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’। পাকিস্তান আমলেই ‘মুসলিম’ শব্দটি ছেঁটে ফেলা হয়। স্বাধীনতার পর নাম হয় ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ; সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রাও বের করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যন্টিন থেকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে ওবায়দাল কাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনে শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন যখন থাকবে, তখন যারা প্রার্থী হবে, তারা ভাববে আমি যদি খারাপ আচরণ করি তাহলে শিক্ষার্থীরা আমাকে ভোট দিবে না। কাজেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন দরকার। আজকে ২৫ বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে সকল ছাত্র সংসদ। খোলা থাকলে অন্তত ৫০ জন নেতা তৈরি হতো। ছাত্রলীগে ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়ে কাদের বলেন, ত্যাগী কর্মীরা যেন কোণঠাসা না হয়। ছাত্রলীগে যেন পকেট কমিটি কোথাও না হয়। এটা আমি বিশেষভাবে বলছি। আজকে অমুকের এই ভাগ, তমুকের এই ভাগ। এই ভাগাভাগি করলে ছাত্রলীগের অগ্রযাত্রা ব্যহত হবে। ছাত্রলীগের মান ক্ষুন্ন হবে। কারও বাসা বাড়ি পাহারা দেওয়া ছাত্রলীগের কাজ না। সংগঠনের মধ্যে এসব চলবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, আজকে বিএনপির বুদ্ধিজীবীরা বলে, বিএনপি হাঁটু ভাঙ্গা দল। আমি বলব, ফেলে আসা বছরের সবচেয়ে ব্যর্থ দল হচ্ছে বিএনপি। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের পর আগামি নির্বাচনে বিএনপির জেতা অস্বাভাবিক। নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে হারার পর বিএনপি দিশেহারা দলে পরিণত হয়ে গেছে। এখন তারা আবোল-তাবোল বকছে, উন্মাদের মতো হয়ে গেছে। বিবৃতি সর্বস্ব কর্মকা- করছে। তাই আমি আমার সহকর্মীদের বলি এদের সকল প্রশ্নের জবাব দেওয়ার দরকার নেই। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এ কে এম এনামুল হক শামীম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন, উপপ্রচারবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আবদুল মান্নান, বাহলুল মজনু চুন্নু, ইসহাক আলী খান পান্না, মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, বাহাদুরি বেপারী, লিয়াকত শিকদার, মাহমুদুল হাসান রিপন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, বদিউজ্জামান সোহাগ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, মোতাহের হোসেন প্রিন্স প্রমুখ। জাতীয় সংগীত, ছাত্রলীগের থিম সং ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশন করেন ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিককর্মীরা। এরপর আলোচনা শেষে বেলুন উড়িয়ে র্যালির উদ্বোধন করেন ওবায়দুল কাদের। র্যালিটি শাহবাগ, মৎস্যভবন, প্রেসক্লাব, পল্টন, জিপিও হয়ে ২৩, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain