জানুয়ারি ৩, ২০১৭,১০:৩১ অপরাহ্ণ
স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার গুলশানে ডিএনসিসি মার্কেটে অগ্নিকা-ের ঘটনা দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত নাশকতা- তা খতিয়ে দেখতে সব পক্ষকে নিয়ে তদন্ত করতে বলেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। এসব স্থাপনার অগ্নি নিরাপত্তা ঠিকঠাক আছে কি না, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তা দেখার কথা ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, দায়িত্বপ্রাপ্তরা সেটি করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রিয়াজুল হক যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখনও ভেতরে আগুন জ¦লছিল। রাত ২টার পর ছড়িয়ে পড়া ওই আগুন নেভাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল ফায়ার সার্ভিসের ২৩টি গাড়ি। পরিস্থিতি দেখার পর মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগে। কখনো বস্তির ঘর পুড়ে যায়, কখনো দোকানপাট পুড়ে যায়। সেখানে যারা বসবাস করত, তারা চলে গিয়ে আরও কিছু নতুন লোকজন সেখানে বসবাস করা শুরু করে। এভাবে চলতে পারে না। তিনি বলেন, গুলশানে কীভাবে আগুন লেগেছে- তা নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিতভাবে কেউ আগুন লাগিয়েছে তা তদন্ত করে খুঁজে বের করতে হবে। এই তদন্তের দায়িত্ব কেবল ফায়ার সার্ভিসের ওপর না দিয়ে পুলিশ, দোকান মালিক ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের নিয়ে আলাদা একটি তদন্ত কমিটি করে আগুনের কারণ খুঁজে বের করতে বলেন তিনি। রিয়াজুল হক বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা হলে কীভাবে তার সমাধান করা যায় সে বিষয়েও ওই তদন্ত কমিটি সুপারিশ করবে। ঠিক কীভাবে এ মার্কেটে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে সে বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ব্যবসায়ীদের কারও কারও অভিযোগ, এটা নাশকতার ঘটনা।
আশুলিয়ার শ্রমিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে: আশুলিয়ার শ্রমিক পরিস্থিতিতে শ্রম অধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কমিশনের কারওয়ানবাজার কার্যালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের ১২ সদস্যের দল চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সঙ্গে দেখা করেন। আশুলিয়ার শ্রমিক ইস্যুতে তার হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, আশুলিয়ার আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিক নির্যাতনেরও অভিযোগ করছেন শ্রমিক নেতারা। আমরা এসব বিষয় খতিয়ে দেখবো। কিভাবে শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান করা যায়, তা নিয়ে কাজ করবো। তাজরীনের অগ্নিকা-ে আমরা দেখেছি, শ্রমিকদের জীবনের চেয়ে কাপড়ের নিরাপত্তাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন মালিকপক্ষ। এ দেশের শক্ত অবস্থানের ক্ষেত্রে পোশাক শ্রমিকদের অবদান উল্লেখযোগ্য। শ্রমিক ছাঁটাই ও নির্যাতন বন্ধ, শ্রমিকদের কথা বলার অধিকার প্রদান, মামলা প্রত্যাহারসহ ৮ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, শ্রমিকদের ওপর নানা নির্যাতন চলছে। কাজে যোগ দেওয়া শ্রমিকরাও মামলা ও ছাঁটাই আতঙ্কে রয়েছেন। স্থানীয় মাস্তানদের দিয়ে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে, যা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় স্মারকলিপিতে। গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরির বিষয়ে কথা বলবেন, এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে যেভাবে নির্যাতন চলছে, তা কাম্য নয়। তারা ঘরে শান্তিতে থাকতে পারছেন না। মামলা ও মাস্তানের ভয়ে সময় কাটে তাদের। কারখানায় ছাঁটাই আতঙ্ককে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হয়। এসবের মাধ্যমে শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। আমরা আশা করবো, এসব বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পদক্ষেপ নেবে।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain