মে ৬, ২০২৬,১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে বাংলাদেশ পুলিশ-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের দাম্পত্য দ্বন্দ্ব এবং পারিবারিক অশান্তি। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রী রহিমা বেগমের সম্পর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিয়ের পর তাদের সম্পর্কে দূরত্ব আরও বাড়ে। একপর্যায়ে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আলাদা বসবাস শুরু করেন।
তবে প্রায় ৮-৯ মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আলমগীর আবার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। ধারণা করা হয়েছিল, এতে পারিবারিক অশান্তির অবসান হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই বিরোধ আরও গভীর আকার ধারণ করে।
ঘটনার দিন, গত ২৮ শে এপ্রিল রাতে তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহ চরমে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তেজিত হয়ে আলমগীর তার স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা দিয়ে ভয় দেখান। এতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী রহিমা বেগম ও তাদের ছেলে রবিউল হাসান রাকিব (১৮) মিলে ঘরে থাকা গাছ কাটার ধামা দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর পুরো বিষয়টি আড়াল করতে তারা এলাকায় ভিন্ন গল্প ছড়িয়ে দেন। বলা হয়, রাতে আলমগীর ঘর থেকে বের হলে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তবে এই বক্তব্যে অসংলগ্নতা থাকায় পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়।
এরপর তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনাস্থলের আলামত, পারিপার্শ্বিক তথ্য এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। অবশেষে ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার ভোরে উত্তর পদুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রহিমা বেগম ও তার ছেলে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ধামা দা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতে পাঠানো হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, শুরু থেকেই পরিবারের বক্তব্যে অসংগতি ছিল। সেসব অসামঞ্জস্য এবং প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল আলমগীর হোসেনের মরদেহ তার বাড়ির বাইরে উদ্ধার করা হয়। প্রথমদিকে পরিবার অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের দায়ী করলেও তদন্তে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র।
এই ঘটনার দ্রুত রহস্য উদঘাটনে এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও এটি সমাজের জন্য এক গভীর বার্তা রেখে গেছে—পারিবারিক কলহ, অব্যক্ত ক্ষোভ ও মানসিক চাপ যদি সময়মতো সমাধান না করা হয়, তাহলে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
সঠিক সংবাদ সংগ্রহ করা হয়।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain