ডিসেম্বর ১৭, ২০১৬,১১:২৮ অপরাহ্ণ
স্টাফ রিপোর্টার : বন্দরনগর চট্টগ্রামকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যত গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
গতকাল শনিবার এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়ামে ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং’ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “সারাদেশে ২৮টি আইটি পার্ক করা হবে। বাকলিয়ায় আমরা ১৪ একর জমি পেয়েছি। সেখানে শিগগিরই সফটওয়্যার টেকনলজি পার্ক হবে। চট্টগ্রাম হবে বেঙ্গালুরুর মতো, ভবিষ্যত বিশ্বের আইসিটি ডেসটিনেশন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ডিজিটাল আর্কিটেক্ট অব বাংলাদেশ সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনা অনুসারে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সকল ইউনিয়নে হাইস্পিড ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কিংয়ের আওতায় নিয়ে যাব। যারা আউটসোর্সিং করতে পারেন তারা গ্রামে বসেও ডলার উপার্জন করতে পারবেন। এজন্য প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। আমাদের সৌভাগ্য বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর ৭০ শতাংশই তরুণ। প্রশিক্ষণ পেলে তারা সম্পদ হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকারি সেবা, কানেকটিভিটি, প্রশিক্ষণ এবং তথ্য প্রযু্ক্িত খাতে শিল্পায়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশে বর্তমানে স্মার্টফোনের সংখ্যা দুই কোটি ৯০ লাখ। অনুষ্ঠানে হাততালি কমার কারণ সবার হাতে স্মার্টফোন। মনে করি, এটা একটা সাফল্য। তাই হাততালি কম হলেও কিছু মনে করি না। অনুষ্ঠানে আনোয়ারার ফ্রিল্যান্সার জেকব নাথ এবং পটিয়ার উদ্যোক্তা সুজন সেনের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। পরে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পে চট্টগ্রামের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানস্থলেই প্রকল্পের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, “চট্টগ্রামে আমরা যারা আছি, আমাদের নিয়ে এক ধরণের ধারণা কাজ করে। আমরা অর্থনীতিতে সিংহভাগ যোগান দিচ্ছি কিন্তু আমরা যেন কোথাও নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়ে চট্টগ্রামে আইটি পার্ক করছেন। কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে খাস জমি আছে। সেগুলো অবৈধ দখলদারদের হাতে। প্রধানমন্ত্রী এ জমি উদ্ধার করে কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
কথার উপর ট্যাক্স চান মেয়র
সকাল ১০টায় এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও অতিথিরা এসে হাজির হন আরও কয়েক মিনিট পর। পরে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের তাড়ায় দ্রুত এগোতে থাকে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম। ১০টা ২১ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন প্রধান অতিথি আ জ ম নাছির উদ্দিন। বক্তব্যে এ বিষয়টিরও অবতারনা করেন মেয়র।
তিনি বলেন, সময়মত অনেক অন্ষ্ঠুানই শুরু হয় না। অনেক জায়গায় বক্তারা আসে না। আমরাও আসি না, আত্মসমালোচনার প্রয়োজন আছে। দর্শকরাও মনে করে- ‘ও অনুষ্ঠান শুরুর সময় তিনটায়, তার মানে পাঁচটায় শুরু হবে। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। আজকের অনুষ্ঠান ব্যতিক্রম। আমি ১০ মিনিট দেরিতে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি মিলনায়তন পূর্ণ। বাইরেও মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। অনুষ্ঠান সময়েই শুরু হয়ে গেছে। এতে এটাই প্রমাণ করে আমরা পারব, আমাদের পারতেই হবে। গত ২ নভেম্বর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেড় ঘণ্টা, ২৯ নভেম্বর নগরীর সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকৌশলীদের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে আলোচনায় এক ঘণ্টা ৫০ মিনিট এবং ৭ ডিসেম্বর ফার্নিচার মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ের চার ঘণ্টা পর হাজির হয়েছিলেন মেয়র। এছাড়া মেয়র হিসেবে ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রথম এবং এ বছরের ৯ অক্টোবর দ্বিতীয় বাজেট পেশের দিনও নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা বিলম্বে হাজির হয়েছিলেন তিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আলোচকদের লম্বা বক্তৃতার সমালোচনা করে নাছির বলেন, কথা বলতে গেলে আমাদের কোনো সময়জ্ঞান থাকে না। দেশ এগোচ্ছে, আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। ট্যাক্স আদায় বাড়াতে হবে। অনেক সময় আমি আলাপে বলি- কথা বলার উপর যদি ট্যাক্স বসানো যেত তাহলে সবচেয়ে বেশি আয় হতো। কেউ ট্যাক্স দিতে না চাইলে কথাও বলবে না। সুযোগ পেলে এই প্রস্তাব আমি রাখব। শনিবারে অনুষ্ঠানে মেয়র ১৪ মিনিট এবং উদ্বোধক প্রতিমন্ত্রী ২৩ মিনিট বক্তব্য দেন। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান, বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীন, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক তপন কুমার নাথ এবং রবি অজিয়াটা লিমিটেডের পরিচালক (বিপণন) নাজির আহমদ।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain