ডিসেম্বর ৫, ২০১৬,৯:৩৯ অপরাহ্ণ
বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম: রাজধানীর মিরপুর সনি সিনেমা হলের পাশে রেজাউল অ্যাপারেলস গার্মেন্টস স্থানান্তর নিয়ে শ্রমিকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে দুই পোশাক শ্রমিক আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সকাল ৭টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। আহত শ্রমিকদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান, মেডিকেল ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া। আহতরা হলেন- পোশাক শ্রমিক সোনিয়া ও কারখানার পাশের মল্লিক প্লাজার নিরাপত্তা কর্মী মাহফুজ। গার্মেন্টস শ্রমিকরা জানান, রেজাউল অ্যাপারেলস গার্মেন্টস গাজীপুরের কোনাবাড়িতে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়ে আসছিলেন গার্মেন্টস মালিক। কিন্তু শ্রমিকরা এতে বাধা দেন। গতকাল সোমবার সকালে শ্রমিকরা কাজ করতে এসে দেখেন গেটে তালা এবং পুলিশ ডিউটি করছে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করলে পুলিশ তাদের ওপর টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। এদিকে, রেজাউল অ্যাপারেলসের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে তাদের পক্ষে কারখানাটির মালিকের কাছে ৩ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন বাংলাদেশ বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ। গতকাল সোমবার বেলা ২টায় গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি এ দাবি উত্থাপন করেন। সালাউদ্দিন বলেন, শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেওয়ার বিষয়ে মালিক পক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো তা পরিশোধ করতে হবে। আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন তাদের সকল চিকিৎসার খরচ গার্মেন্টস মালিককে বহন করতে হবে। তিনি বলেন, আজকের মধ্যে যদি সিদ্ধান্ত না দেওয়া হয় তাহলে আমরা এখানেই অবস্থান করবো। বেতন-বোনাস না দেওয়া হলে ওই জায়গাকে অচল করে দেওয়া হবে। শ্রমিকদের কোনো দোষ নেই, সব দোষ মালিক পক্ষের। বেতন দেওয়ার কথা বলে ও গেটে তালা ঝুলানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিজিএমইএ’এর নেতাকর্মীর ঘটনাস্থলে আসছেন। তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা করা হবে। তবে পরে, রাস্তা আটকে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এদিকে, মিরপুর চিড়িয়াখানা সড়কে গতকাল সোমবার সকালের ওই ঘটনায় কেউ আহত হননি বলে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাসুদ জানিয়েছেন। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া জানিয়েছেন, সকাল ১১টার দিকে ওই কারখানার সোনিয়া নামের এক কর্মী হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া মিরপুরের ওই সড়কের একটি ভবনের নিরাপত্তকর্মী মাহফুজও (৩০) হাসপাতালে আসেন বলে তিনি জানান। তারা দুজনই সামান্য আহত হয়েছেন বলে এসআই বাচ্চু মিয়ার ভাষ্য। এদিকে, এর আগে হাসপাতালে ওই কারখানার শ্রমিক সোনিয়া সাংবাদিকদের জানান, সকালে কারখানায় এসে মূল ফটকের তালা এবং আশপাশে পুলিশ দেখে তারা রাস্তায় নামেন। শ্রমিকরা জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করলে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে। তিনি বলেন, কারখানা স্থানান্তর করলে সব শ্রমিক তো আর গাজীপুরে যেতে পারবে না। যারা যাবে না সেসব শ্রমিকদের বেতন বকেয়াসহ পরিশোধ করতে হবে। পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদের ভাষ্য, শ্রমিকরা স্কুলপড়ুয়া শিশুদেরও চলাচলে বাধা দেওয়ায় পুলিশ ‘ফোর্স’ করতে বাধ্য হয়েছে। পুলিশ কয়েক রাউন্ড কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করেছে। তবে কেউ আহত হয়নি। দুপুর দুইটার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষের আলোচনা চলছে।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain