আগস্ট ৩১, ২০১৬,৭:২৬ অপরাহ্ণ
বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম: বগুড়া: বগুড়ায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার নাফিজ সিয়ামকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি ও হত্যার দায়ে যুবক আল আমিন সোহাগকে (২২) মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বগুড়ার শিশু আদালতের (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সরকার পাড়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। মামলা দায়েরের দুই বছর তিন মাসের মাথায় চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
মুক্তিপণ দাবি, অপহরণ ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে চারটি ধারায় এ দণ্ডাদেশ দেন আদালত। এরমধ্যে হত্যাকাণ্ডের জন্য ফাঁসি, মুক্তিপণের জন্য যাবজ্জীবন, অপহরণের জন্য ১০ বছর কারাদণ্ড ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে আরও তিন বছর কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
সঙ্গে আসামিপক্ষ সাতদিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল না করলে হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন আদালতের বিচারক।
বগুড়ার শিশু আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) খায়রুল বাশার নীলুজ জানান, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক শহরের পুরান বগুড়ার বেল্লাল রহমানের ছেলে শাহরিয়ার নাফিজ সিয়াম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিলো।
দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আল আমিন সোহাগ তার পরিবারের সঙ্গে একই এলাকায় একটি ভাড়া বাসাতে বসবাস করতেন।
২০১৪ সালের ১৭ মে আল আমিন সোহাগ শিশু সিয়ামকে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করেন। বাবা বেল্লাল রহমানের কাছে মোবাইলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। কিন্তু দাবি করা টাকার মধ্যে ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও সিয়ামকে ফেরত পায়নি তার পরিবার। ঘটনার একদিন পর সোহাগকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শিশু সিয়ামের বাবা বাদী হয়ে একইবছরের ১৯ মে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে সদর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন আল আমিন সোহাগকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষ বুধবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে এ রায় দেন বলে জানান এপিপি খায়রুল বাশার নীলুজ।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain