জুন ২২, ২০১৬,৭:১৭ পূর্বাহ্ণ
বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম:ঢাকা : রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ধর্মগুরুকে হুমকি দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল গ্রাম্য রেষারেষির জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখানে কোনো জঙ্গি–সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি পুলিশের।
গত বুধবার দুপুরে মোটরসাইকেলের আরোহী এক ব্যক্তি রামকৃষ্ণ মিশনে হুমকিসংবলিত একটি চিঠি দিয়ে যায়।
একের পর এক লেখক, ব্লগার, ভিন্নমতাবলম্বী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হত্যার মধ্যে ওই চিঠিটি ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। এ ঘটনায় রামকৃষ্ণ মিশনের পক্ষ থেকে ওয়ারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। রামকৃষ্ণ মিশনের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।
এই হুমকির বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ মহলে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচিত হয়। তবে চিঠি দিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত পুলিশ আটক করতে পারেনি।
পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একজন কর্মকর্তা গতকাল বলেন, গত বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে রামকৃষ্ণ মিশনে এসে চিঠিটি দিয়ে যান। মিশনের ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, লোকটি চিঠি হস্তান্তর করেও বৃষ্টির কারণে প্রায় ১৩ মিনিট মিশনের ভেতরেই অবস্থান করেন। তবে মাথায় হেলমেট থাকায় সিসি ক্যামেরায় তাঁর চেহারা স্পষ্ট হয়নি।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, একজন জঙ্গি নিশ্চয়ই চিঠি দিয়ে মিশনের ভেতর ১৩ মিনিট বসে থাকবে না। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, সেই চিঠির ওপরে ছাপা হরফে লেখা রয়েছে—‘ইসলামিক স্টেট অব বাংলাদেশ, (গোপন এজেন্ট), চান্দনা চৌরাস্তা, ঈদগাহ মার্কেট, গাজীপুর’। এর নিচে হাতে লেখা। সেখানে মিশনের প্রধান ধর্মগুরুকে ভারতে চলে যেতে বলা হয়। না হলে তাঁকে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। চিঠির নিচে প্রেরকের নাম লেখা হয় এবি সিদ্দিক, ১২ জুন।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, চিঠির শেষ দিকে লেখা ছিল, ‘মনে রাখিস আমার বাবা…এলাকার গরুচোর মরহুম…। বর্তমানে আমার ঠিকানা নাই।’ চিঠিতে উল্লেখিত কিশোরগঞ্জের ওই এলাকার সূত্র ধরে এবি সিদ্দিককে খুঁজে পায় পুলিশ। পুলিশ জানতে পারে, সাবেক সেনাসদস্য এবি সিদ্দিক ঢাকায় থাকেন। কিশোরগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে তিনি মাছের খামার করেছেন, পেট্রলপাম্প নির্মাণাধীন। এ নিয়ে এলাকার কিছু লোকের সঙ্গে তাঁর রেষারেষি রয়েছে। গত সোমবার এবি সিদ্দিককে ওয়ারী থানায় ডেকে আনা হয়। তাঁর সঙ্গে কথা বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন, তাঁকে ফাঁসাতে প্রতিপক্ষের কেউ এই চিঠি দিয়েছে। পরে পুলিশ এবি সিদ্দিকের নিজ হাতে লেখা একটি বক্তব্য নেয়। সেই বক্তব্যের হাতের লেখা আর হুমকি দেওয়া চিঠির হাতের লেখা মিলিয়ে দেখা যায়, দুটি লেখার মধ্যে কোনো মিল নেই।
এবি সিদ্দিক গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, তাঁকে ফাঁসাতে প্রতিপক্ষের কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, এবি সিদ্দিককে মাদক ব্যবসায়ী উল্লেখ করে একটি মহল এর আগে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ বিভিন্ন কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছিল।
পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, এটি যে জঙ্গিদের কর্মকাণ্ড নয়, সেটি নিশ্চিত। গ্রাম্য রেষারেষি থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন সিদ্দিককে ফাঁসাতে এ কাজ করেছে। তবে এরপরও রামকৃষ্ণ মিশনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, চিঠি দিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেলের ওই আরোহীকে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain