অক্টোবর ২১, ২০১৭,৯:১৪ অপরাহ্ণ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সাঘাটায় চিকিৎসার নামে নামসর্বস্ব ডাক্তাররের দৌরাত্ম দিন দিন বাড়ছে। প্রশাসনিকভাবে কোন তদারকি না থাকায় তারা যেথানে সেখানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সকল প্রকার ব্যবস্থাপত্র ও সার্জিক্যাল চিকিৎসা প্রদান করছে। এতে রোগ নিরাময়ের চেয়ে জটিল ও কঠিন যন্ত্রনায় ভুগছেন রোগিরা। সরকারী হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে গ্রামের সাধারন মানুষ বাধ্য হয়ে এসব চিকিৎসকে দ্বারস্থ হচ্ছেন। এ সুযোগে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে রাতারাতি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন ভুয়া এসব চিকিৎসকরা।
নদী ভাঙ্গন ও বন্যা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা হওয়ায় উপজেলার অধিকাংশ লোকজনই নি¤œআয়ের। যে কারণে প্রতিদিন সরকারী হাসপাতালে রোগির সংখ্যা অনেক বেশি হয়। নানা অযুহাতে মেডিকেল অফিসাররা অন্যকাজে ব্যস্ত থাকায় ব্যহত হয় চিকিৎসা সেবা। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকার একশ্রেনির সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে গ্রামগঞ্জের হাট-বাজার ছাড়াও উপজেলার বোনারপাড়ায় চিকিৎসার নামে ফার্মেসিসহ ডাক্তার চেম্বার খুলেছেন। এরকম দুইশতাধিক ভূয়া চিকিৎসক রয়েছে উপজেলার আনাচে কানাচে। অনেকের নাম মাত্র প্রশিক্ষণও নেই অথচ নিজেকে ডাক্তার দাবি করে জটিল ও কঠিন রোগের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন তারা। কিছু কিছু এলাকার মুদি দোকানেও ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে কীটনাশকের দোকানে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ বিক্রি করা হ”্ছ।ে এদিকে বোনারপাড়া বাজারে কয়েকজন ডিএমএফ ডাক্তার দির্ঘদিন ধরে মানুষের ভুল চিকিৎসা দিচ্ছেন।
কয়েক বছরে তারা কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। সহজ সরল রোগীরা এদের খপ্পড়ে পড়ে হাজার হাজার টাকা গচ্চা দিয়ে নি:স্ব হচ্ছেন। আর রোগ থেকেই যাচ্ছে বছরের পর বছর। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব ভূয়া চিকিৎসকের অপচিকিৎসায় অনেকেরই অঙ্গহানিসহ মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার বোনারপাড়া বাজারের এক ভুয়া চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় বুড়-ঙ্গি গ্রামের তুষার মিয়ার মেয়ে তন্নী তার ডান পা হারাতে বসেছে। পায় ৪ মাস ধরে যন্ত্রনায় ভুগছে মেয়েটি। ওই ভুয়া চিকিৎসকের কারণে প্রায় ২ লাখ টাকা মেয়ের চিকিৎসায় খরচ হয়েছে বলে জানান তুষার মিয়া। ওই ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্ততি নিচ্ছেন বলে জানালেন তিনি। এসব ডাক্তারের খপ্পড়ে পড়া শিশÍ ও প্রসূতির সংখ্যাই বেশি। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় দৌরাতœ বেড়েছে তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেডিকেল কর্মকর্তা জানান, হাতুড়ে ও ভূয়া চিকিৎসকরা এলাকায় নিজেদের নাম প্রচারের জন্য সব রোগের চিকিৎসা করছেন। রোগীর সঠিক রোগ নির্ণয় না করেই রোগীদের একাধিক হায়ার এ্যন্টিবায়োটিক ওষুধ দিচ্ছেন। ফলে কোনো ওষুধেই কাজ হচ্ছেনা। এতে রোগীর ক্ষতিই হচ্ছে বেশি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মাসুদ পারভেজ এসব খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain