আজ সোমবার,২৭শে জুন, ২০২২ ইং, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলক্বদ, ১৪৪৩ হিজরী

আজ-ও মেরামত হয়নি পোস্তগোলা বুড়িগঙ্গা সেতু । bdnewstv24.com

জুন ২১, ২০২২,১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

 
Spread the love

Reporter :- bdnewstv24.com

 

প্রায় ০২ ( দুই)  বছর পার হলেও আজও সংস্কার হয়নি ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’ পোস্তগোলা বুড়িগঙ্গা সেতু’র নিচের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি। দীর্ঘ ০২ ( দুই) বছর যাবত সেতু’র ওপর ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি বাশ এবং  লোহার পাত দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে সড়ক এবং  জনপথ কর্তৃপক্ষ। ফলে সেতু’র একপাশের কিছু অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এমনকি এর ওপর দিয়ে অনেক ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে এর চালকরা। তাদের মতে, এটি আমাদের কাছে অনেকটা অনিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি এটি যে কোন পরিবহণ চলাচলের জন্য উপযোগী। আগামী ২৫ শে জুন  ২০২২ ইং পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উদ্বোধন করা হবে। তখন এই সেতু’র ওপর পরিবহনের চাপ বেড়ে যাবে। ফলে সেতু’র এই অংশটুকু কতটা নিরাপদ হবে সেটাই সাধারন মানুষের প্রশ্ন!

গত ২০২০ইং সালের ১ (পহেলা) জুলাই মুন্সিগঞ্জ থেকে সকাল সোয়া আটটায় রওনা দিয়ে এমভি মর্নিং বার্ড নামের একটি ছোট লঞ্চ সোয়া নয়টার দিকে সদরঘাটের কাছাকাছি শ্যামপুরে এসে পৌছায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এ সময় চাদপুরগামী এমভি ময়ুর – ২ লঞ্চটি পেছনের দিকে বাক নিতে গিয়ে ছোট লঞ্চটিকে ধাক্কা দিয়ে এর ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লঞ্চটি ডুবে যায়। তখন উদ্ধার হওয়া যাএীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডুবে যওয়া লঞ্চটিতে প্রায় ৬০ জন যাএী ছিলেন। এর মধ্যে ডুবুরিরা ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করেন। কিন্তু লঞ্চটি উদ্ধারেও বিপত্তি ঘটে। পর দিন সকাল পর্যন্ত উদ্ধারকারী লঞ্চটি দুর্ঘটনাস্থলে পোস্তগোলায় অবস্থিত বুড়িগঙ্গা সেতুর কারণে আসতে পারেনি। তখন উদ্ধারকারী লঞ্চটির ধাক্কায় সেতুর কিছুটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সেতু’র ওপর দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল নিষেধ করেন কর্তৃপক্ষ। পরে বুয়েটসহ বিভিন্ন সংস্থার বিশেষজ্ঞরা এসে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে সেতু’র ওপর ক্ষত জায়গায় বেরিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। এবং ভারি যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি নেই বলে জানানো হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আজও সেটি সংস্কার করে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। এব্যপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেরানীগঞ্জ হাসনাবাদ অফিসের সড়ক এবং  জনপথ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, এটা ঝুঁকিপুন’ নয়। আর কাজ শেষ করে এসব বেরিকেড খুলে দেওয়া হবে। কিন্ত কবে, সেব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন। এদিকে ভারি লরিচালক ইসমাইল জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে এই সেতু দিয়ে ভারি যানবাহন চালিয়ে যাওয়া অনেকটা অনিরাপদ এবং ঝুঁকি মনে হওয়ায় বাবুবাজার ব্রিজ দিয়ে পার হই। যদিও চলাচল নিষেধ নাই। এই সেতু’র ওপর টোল আদায়কারী একজন জানান, সেই দুর্ঘটনার পর থেকে এদিক দিয়ে ভারি যান চলাচল কমে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন এই সেতু’র ওপর দিয়ে ছোট-বড় কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। আর পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিনাঞ্চলের ২১ জেলার চলাচলরত পরিবহনের চাপ অনেক বেড়ে যাবে। ফলে যানজট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এব্যপারে সেতু’র ওপর দিয়ে যাওয়া প্রাইভেট কারচালক জুয়েল বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিনাঞ্চলের গাড়ির চাপ বেড়ে যাবে। তখন যানজট সৃষ্টি হতে পারে। ফলে এই সেতু’র ওপরও চাপ বাড়বে। তাই এর আগে সেতু’র ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাটি সংস্কার করা জরুরী। সেতুতে ঘুরতে আসা সালাম জানান, শুনছি সেতু’র নিচের এখানে ভেঙ্গে গেছে। তাই বাশ এবং  লোহা দিয়া আটকাইয়া দিছে। ভয়ে এই জায়গায় যাই না। কিন্ত অনেক মানুষই ঝুঁকি নিয়ে সেখানে হাটাচলা করছে। ওখানে গাড়িও চলে না। এদিকে সেতু’র একপাশের বাতিগুলো জললেও অন্য পাশের বাতি জলতে দেখা যায়নি।

এব্যপারে সড়ক এবং জনপথ, মুন্সিগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবুল কাশেম মোহাম্মদ নাহীন রেজা জানান  সেতু’র ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কাজ শেষ করেই বেরিকেড খুলে দেওয়া হবে।

সকল সংবাদ সংগ্রহ করি ।

 

Chairman

Md. Riadul Islam (Afzal)
Chairman
www.bdnewstv24.com
 

সর্বশেষ সংবাদ

 

সারাবাংলা

 

 

Site Developed By: Md. Shohag Hossain