অক্টোবর ২১, ২০১৭,৯:১২ অপরাহ্ণ
স্টাফ রিপোর্টার: সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে টানা দুদিনের অবিরাম বৃষ্টিধারায় থমকে গেছে পুরো ঢাকা শহরের জনজীবন। শনিবার রাজধানীর বেশিরভাগ রাস্তায় ছিল না মানুষের আনাগোনা; যানবাহনের সংখ্যাও ছিল কম। বৃষ্টিতে পুরান ঢাকা থেকে শুরু পল্টন, মালিবাগ-মৌচাক ও রাজারবাগ এলাকা, মিরপুরের বিভিন্ন অংশ, বাড্ডা ও রামপুরা ও ধানমন্ডিসহ রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যায়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার প্রায় সব এলাকায় কমবেশি পানি জমে।
পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজার, কাজী আলাউদ্দিন রোড, নাজিমউদ্দিন রোড, মতিঝিল, বঙ্গভবনের দক্ষিণ ও পশ্চিমপাশের সড়ক, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে বেশি পানি জমে বলে জানায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। সড়কের ম্যানহোল এবং নিষ্কাশন নালার পিটগুলো খুলে দেওয়ার কাজ করে সিটি করপোরেশন।
এ কাজে ডিএসসিসির ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম’মাঠে ছিল বলে জানান ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা শফিকুল আলম। তবে তাতে অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি। তিনি বলেন, ময়লা জমে ড্রেনের অনেক জায়গায় ব্লক হয়েছে। সেগুলো আমরা ক্লিয়ার করে দিচ্ছি। চারদিকে আমাদের লোক নেমেছে। রাতেও তারা কাজ করেছে। সবখানেই পানি আছে। তবে আশার কথা হলো পানি যাচ্ছে। কোথাও স্লো, কোথাও ফাস্ট। কোথাও একবারে স্থবির হয়ে আছে এমন না। এদিকে মালিবাগের দিকে মালিবাগ, রাজারবাগ, মৌচাক, শান্তিবাগ, গুলবাগ, মোমিনবাগসহ বিভিন্ন অলি-গলির সড়কে পানির নিচে। কাকরাইলের নাইটিঙ্গল রেস্তোরাঁ থেকে পল্টন মডেল থানার সড়কেও পানি উঠে বিভিন্ন ফুটপাতে।
মতিঝিলের বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী কাকরাইল এলাকায় ছাতা নিয়ে প্যান্ট হাঁটু পর্যন্ত উঠিয়ে যানবাহনের অপেক্ষায় বলেন, রামপুরা থেকে হেঁটে এসেছি। রিকশার ভাড়া অনেক বেশি। রামপুরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যেতে রিকশাওয়ালারা ১০০ টাকার নিচে যেতে চান না। তাই হাঁটা ছাড়া উপায় কী? হালিম জানান, মালিবাগ চৌধুরী পাড়ার ভেতরের বেশ কয়েকটি গলির সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। মালিবাগ থেকে মৌচাক পর্যন্ত ফুটপাতে সকাল থেকে হকাররা বসে। আজকে সকাল থেকে সেই ফুটপাত একেবারই ফাঁকা। চা বিক্রেতা হাকিম উদ্দিন বললেন, খুবই খারাপ দিন যাইতাছে। কালকেও বিক্রি নাই। আজকেও হবে বলে মনে হইতেছে না। অবিরাম বৃষ্টির কারণে মালিবাগ-মৌচাকের দোকান-পাটও সকালে খুলেনি। গুলবাগ, শান্তিবাগ, মোমিনবাগসহ এই এলাকায় ভেতরের রাস্তাগুলো পানির নিচে। মানুষজনকে পানি ডিঙিয়ে বাইরে বের হতে হয়। সরেজমিনে বায়তুল মোকাররম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার ফুটপাতগুলোতে কাপড়-চোপড়ের পসরা নিয়ে দোকান বসলেও কোনো মানুষজন নেই। ফুটপাতে গেঞ্জি ও প্যান্টের বিক্রেতা ফজলুল হক বলেন, বৃষ্টির কারণে বিক্রি একেবারেই কম।
গত শুক্রবার বিক্রি করেছি মাত্র ৫টা গেঞ্জি। কিভাবে দিন যাবে বুঝতে পারছি না। তিনি জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৪০/৪৫টি গেঞ্জি বিক্রি হয়। মালিবাগ, পল্টনের সড়ক পথের পাশের কয়েকটি হোটেলের কর্মচারীরা জানান, বৃষ্টির কারণে মানুষজন প্রায় আসছেই না। শনিবার স্কুল-কলেজ ও সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকলেও স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের কোচিং খোলা থাকে। মালিবাগ মোড় থেকে অনেক শিক্ষার্থী ফার্মগেইট এলাকায় কোচিং করতে যায়। যানবাহনের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা এমন কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বাসার সামনে পানি ডিঙিয়ে তাদের আসতে হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী আফজাল উল হক ও রিফাত করীম বলেন, তারা ফার্মগেইটে কোচিং যাবেন। আধা ঘণ্টার বেশি দাঁড়িয়েও কোনো বাস পাচ্ছেন না। অথচ এই সড়কে সকালে প্রচুর যানবাহন পাওয়া যায়। বৃষ্টিতে ধানম-ি ২৭ নম্বর, শুক্রবাদ, ফার্মগেট ও ইন্দিরা রোডে এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এসব এলাকার কোথাও কোথাও কোমরপানিও দেখা গেছে। মিরপুর ৬০ ফিট এলাকার বাসিন্দা মরিয়ম মুনা বলেন, এখানে চতুর্দিকে পানি জমে গেছে। বাজার করতে মিরপুরে-১ নম্বরে যাওয়ার কথা থাকলেও বের হয়ে হাঁটুপানি দেখে ফিরে আসি।
মিরপুরের ৬০ ফিট সড়ক অপেক্ষাকৃত উঁচু হলেও এতে পানি জমে যাওয়ার কথা জানান তিনি। রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও, সবুজবাগ, বাসাবো, যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায় বলে জানান এলাকাবাসীর অনেকে। মধ্য বাড্ডার বাসিন্দা ইশতিয়াক হাসান মতিঝিলে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বলেন, বাসার সামনে কোমরসমান পানি। তা ডিঙিয়ে মেইনরোডে এসে দেখি গুলিস্তান রুটের বাস নেই। অফিস ধরতে হবে, অন্য রুটের বাস ধরে যাচ্ছি। রামপুরা থেকে মাদারটেক, ত্রিমোহনী বা ডেমরাগামী যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়েন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রামপুরা ব্রিজে অপেক্ষারত যাত্রী সোহেল মাহমুদ বলেন, ডেমরা রুটের বাস পাচ্ছি না। ৩০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করছি। বনশ্রী থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনমুখী ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ বলেন, কমলাপুর আসার পথে দেখলাম মালিবাগের চৌধুরীপাড়া এলাকায় কোমর সমান পানি। খিলগাঁও ডিসিসি মার্কেট থেকে আবুল হোটেল মার্কেট পর্যন্ত আসার পথটি পানিতে তলিয়ে গেছে। কোনো যানবাহন চলছে না। মালিবাগ রেলগেইটেও একই অবস্থা। এছাড়া যাত্রাবাড়ী, মাতুয়াইল, কাজলা ও ডেমরা এলাকার বিভিন্ন সড়কেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
এছাড়া বিমানবন্দর সড়কের বিভিন্নস্থানের দুই পাশেই পানি জমে রয়েছে। অন্যদিনের তুলনায় এদিন এ সড়কে কম যানবাহন থাকলেও পানির কারণে দুপুর ১২টার দিকে আর্মি স্টেডিয়াম থেকে কাকলী মোড় পর্যন্ত যানজট দেখা গেছে।
Md. Riadul Islam (Afzal) Site Developed By: Md. Shohag Hossain