‘ভোট কারচুপির চেষ্টা হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ’

বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম: মোঃরিয়াদুল ইসলাম:গাজীপুর: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে মো. হাসান উদ্দিন সরকার বলেছেন, নির্বাচনে ভোট কারচুপির চেষ্টা হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবিলা করবো।

সোমবার টঙ্গীর বাসভবনে বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী মো. হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে ধানের শীষের নীরব ভোট বিপ্লব ঘটবে।

তাই যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে হাসান সরকার অভিযোগ করেন, গাজীপুরজুড়ে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। মামলা না থাকলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে রামদা হাতে নিয়ে ভোটারদের ধমক দেয়া হচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুরও করেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। নির্বাচন কমিশনে এ ব্যাপারে একাধিকবার অভিযোগ জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, যুবলীগ-ছাত্রলীগের ক্যাডাররা পুলিশের পোশাক পরে এরই মধ্যে নেমে পড়েছে। তারা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে হাসান সরকার বলেন, সুষ্ঠু ভোট হলে গাজীপুরে ধানের শীষে নীরব ভোট বিপ্লব ঘটবে। গাজীপুরের মাটিতে আমার জন্ম। যখন বাংলাদেশে মাত্র ২১টি পৌরসভা ছিল, তখন আমি পরপর দু’বার পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের ভোটে নির্বাচিত হওয়া কঠিন ব্যাপার। আমাকে নির্বাচিত করলে শ্রমিকদের অধিকার আদায় করা যাবে, এটা তারা জানেন।

শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকবেন জানিয়ে বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপি তিনবার ক্ষমতায় ছিল। জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে।

পোলিং এজেন্ট নিয়োগের বিষয়ে হাসান সরকার বলেন, গাজীপুরে খুলনার মতো হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গাজীপুরে তিন স্তরের পোলিং এজেন্ট রাখা হয়েছে। প্রথম স্তরের পোলিং এজেন্ট ফেল করলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের পোলিং এজেন্ট থাকবে। যেকোনো ত্যাগের বিনিময়ে তারা কেন্দ্রে থাকবেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করুন।

ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ভোট দেয়া ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার। আমার বিশ্বাস, যেকোনো পরিস্থিতিতেই ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। আর ভোট কারচুপি করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবলা করবো।

ভোট সুষ্ঠু হলে বিএনপির প্রার্থী বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন: ফখরুল

বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম: মোঃরিয়াদুল ইসলাম: ঢাকা:  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গাজীপুরে যদি ন্যূনতম নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে বিএনপির প্রার্থী বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন। তিনি আরও যোগ করেন, যদি আগের রাতে ব্যালট বাক্স পূরণ করা না হয়, তাহলে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হবেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গাজীপুরে জনগণের প্রতিরোধ তৈরি হয়েছে। বিএনপির নেতারা যখন গণসংযোগ করতে গিয়েছেন, তখন স্থানীয় লোকজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।

রোববার বিকেলে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বরেন।

গাজীপুরের ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির চাওয়া, ভোটাররা যেন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাঁদের অধিকার পূরণ করেন।

গাজীপুরের জনগণের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটাররা তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার প্রদান করবেন। ভোটাররা সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, নিজেদের ভোটাধিকার প্রদান করবেন। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য গণতন্ত্রকে সমাহিত করা। নির্বাচন ব্যবস্থাকে ব্যবসায় পরিণত করেছে সরকার। এ কারণে গাজীপুর নির্বাচনে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হবেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, গাজীপুর নির্বাচন নিরপেক্ষ না হলে দলটি এর পরের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে পরে জানাবে। এ বিষয়ে আজ এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, তাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখার জন্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বিএনপি স্থানীয় নির্বাচনগুলোয় অংশ নিচ্ছে আন্দোলনের অংশ হিসেবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এ কারণে নির্বাচনগুলোতে বিএনপি অংশ নিচ্ছে। এসব নির্বাচন স্বচ্ছ না হলে বিএনপি সামনের স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ নেবে কি না এবং জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ অযোগ্য। কারণ যারা একটি সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারছে না, তারা কীভাবে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করবে? নির্বাচন কমিশনের কাছে যা-ই অভিযোগ করা হয়, তারা এসব শুনেও শোনে না। বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের কাছে অনেক অভিযোগ করেছেন, কিন্তু কিছুতেই কোনো কাজ হচ্ছে না।

গাজীপুরের পুলিশ সুপারের বিষয়ে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব ফখরুল বলেন, গাজীপুরের পুলিশ সুপার সবার কাছে পরিচিত ও পুরোপুরি ‘আওয়ামী লীগের’। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড সবার জানা আছে। বিএনপি আগেও পুলিশ সুপার হারুনকে এখান থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছিল, এখনো তাঁকে না সরালে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। তিনি বলেন, গাজীপুরের এসপিকে সরানোর জন্য ইসির কাছে অনুরোধ করলে তাঁরা বলেন, তিনি (পুলিশ সুপার) তো অনেক দিন সেখানে আছেন তাই তিনি অনেক কিছু জানেন। তিনি থাকলে নির্বাচন ভালো হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটে তার উল্টো।

মির্জা ফখরুল বলেন, গাজীপুরের নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়। ভোটাররা যেন সুন্দরভাবে ভোট দিতে পারেন। নির্বাচন কমিশন সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। না হলে নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি বিএনপির সুপারিশ উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ সরকারের পছন্দমতো লোক দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। ইসির প্রধান আপাদমস্তক দলীয় লোক।

গাজীপুরে দলীয় এজেন্ট দিতে পারবেন কি না, জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, সব কেন্দ্রের জন্য বিএনপির এজেন্ট প্রস্তুত রয়েছেন। কিন্তু এখন তাঁরা সেখানে থাকতে পারবেন কি না, সেটি দেখার বিষয়। কারণ খুলনাতেও প্রায় ৫০টির বেশি কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এবার গাজীপুরে কী করবে, সেটা দেখার অপেক্ষায় আছে দেশের জনগণ।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার নিজেদের দলের লোক দিয়ে নির্বাচন করছে না। মূলত নির্বাচন পরিচালনা করছে পুলিশ, এসবি ও ডিবির লোকজন। সরকারের পক্ষে নির্বাচন প্রচার পরিচালনার কাজও করছে পুলিশ। এর প্রমাণ হলো পুলিশের গাড়িতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারের দৃশ্য।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, জমির উদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

মুহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ’এর কবিতা “ঈদ” 


রমজানের শেষে চাদ উঠেছে,
চাদ দেখে সবে বলে ঈদ এসেছে।
আনন্দে আত্মহারা সবে,
বলে চাদের রাত ফুরাবে কবে?
ঈদ হলো নাম আনন্দের,
পরে সবে নতুন জামা পছন্দের।
নতুন কাপড় জামা পরে সেজেছে,
সবের মুখে এক আওয়াজ ঈদ এসেছে।
রওনা হয় পরতে নামাজ,
যেন গড়ে ওঠে ঐক্যের সমাজ।
মিলায় একে অপরে কাধে কাধ,
থাকে না এ দিন খুশির বাধ।
আসে বেড়াতে সব আত্মীয় স্বজন,
জমে আমেজ সাথে রসিক ভোজন।
ঈদ আসুক আনন্দ,
ঐক্য,ভালবাসা নিতে জীবনে বার বার,
কেহারও মানতে হয় না যেন
এ আনন্দ উল্লাসের সামনে হার।

ভল্ট থেকে ৭ বস্তা টাকা বের করে নেয়ার সময় সোনালী ব্যাংকের ২ কর্মচারী আটক

বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম:মোঃ সোহাগ হোসেন:ঢাকা: এবার শবেকদরের ছুটিতে সোনালী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৭ বস্তা নতুন টাকা বের করে নেয়ার চেষ্টা করেছে ব্যাংকটির দুই কর্মচারী। তবে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসাররা টাকার বস্তাসহ ওই দুই কর্মচারীকে আটক করে।
জানা যায়, ব্যাংকের সামনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন আনসারের নিরাপত্তা প্রহরীরা। হঠাৎ তারা দেখতে পান সাত বস্তা নতুন টাকাসহ একটি পিকঅ্যাপ ভ্যান বের হচ্ছে। আনসারের প্রহরীরা পিকঅ্যাপ ভ্যানকে আটকান। পিকঅ্যাপ ভ্যানে থাকা দুইজনের কাছে নতুন টাকা বের করে নেয়ার বৈধ ছাড়পত্র চান। তারা প্রথমে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা। আবার বলেন, ভল্টে সমপরিমাণ পুরনো নোট রেখে নতুন টাকা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই আনসারের নিরাপত্তা প্রহরীদের ম্যানেজ করতে পারেননি সাথে থাকা লোকজন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে টাকা আবার ভল্টে রাখা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে।
ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ গণমাধ্যমকে বলেন, এ রকম একটি ঘটনা তিনি শুনেছেন। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঈদের ছুটির পর প্রকৃত ঘটনা জানানো যাবে।
জানা গেছে, এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং অধিকতর তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের ভল্টের চাবি ছিল সোনালী ব্যাংকের ক্যাশের যুগ্ম জিম্মাদার গোলাম মোস্তফা ও সাধারণ শাখার যুগ্ম জিম্মাদার বাবুল সিদ্দিকীর কাছে। এর মধ্যে বাবুল সিদ্দিকী কিছু দিন আগে এ শাখায় যোগ দিয়েছেন। আর গোলাম মোস্তফা আগে থেকেই এ শাখায় ছিলেন। বুধবার শবে কদরের ছুটি থাকায় ব্যাংক বন্ধ ছিল। এ সময়ে তারা ভল্ট থেকে ৭ বস্তা ২ টাকা ও ৫ টাকা নোটের নতুন টাকা পিকঅ্যাপ ভ্যানে করে বের করে নিচ্ছিলেন। কিন্তু বাদ সাধে ব্যাংকের সামনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা আনসারের নিরাপত্তা প্রহরীরা। সাধারণত ব্যাংক থেকে কোনো বস্তা বা কোনো যন্ত্রপাতি বের হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র থাকে। ওই ছাড়পত্র দেখে নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যারা সংশ্লিষ্ট পণ্য ব্যাংক হতে বের হতে দেন। তাই সাত বস্তা নতুন টাকা বের হওয়ার সময় নিরাপত্তা প্রহরীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র দেখতে চান। কিন্তু ছাড়পত্র না থাকায় টাকাকারবারিরা নানা টালবাহানা করতে থাকে। পরে আনসারের সদস্যদের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে নতুন টাকার বস্তা আর বের হতে দেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে গতকাল ব্যাংক খোলার সাথে সাথে হইচই পড়ে যায়। ব্যাংকপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে সোনালী ব্যাংকের সাত বস্তা নতুন টাকা পাচারের চেষ্টার ঘটনা। সোনালী ব্যাংকের দায়িত্বশীল এক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে সোনালী ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী সোনালী ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন টাকা না দিয়ে কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি করে দেন। বিশেষ করে ঈদকেন্দ্রিক এ তৎপরতা বেশি বেড়ে যায়। তারা ভল্টে পুরনো টাকা রেখে বস্তায় বস্তায় নতুন টাকা কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেন। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাত বস্তায় কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ছিল। এ টাকা তারা তিন লাখ টাকা থেকে চার লাখ টাকা বেশি দরে বিক্রি করেছিল কালোবাজারিদের কাছে। কিন্তু আনসার সদস্যদের সতর্কতার কারণে ও ছুটির দিন থাকায় এ যাত্রায় তারা রেহাই পায়নি।

ঢাকায় বর্জ্যের ভাগাড়ে দিনে জমে ২ কোটি পলিথিন

বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম: মোঃ সোহাগ হোসেন:ঢাকা : প্লাস্টিকজাত পণ্যের দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্বজুড়ে যখন নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তখন বাংলাদেশে শুধু রাজধানীতেই প্রতিদিন দুই কোটি পলিথিন জমছে বলে দাবি করেছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকায় সংগঠনের কার্যালয়ে ‘প্লাস্টিক দূষণ : পরিবেশের জন্য হুমকি ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এই পরিসংখ্যান দিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনটি।

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এই পলিথিনকে ঢাকার জলাবদ্ধতার জন্যও দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছে পবা।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পবার সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুস সোবহান বলেন, “রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ১২০০ কারখানায় নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরি হচ্ছে। এগুলোর বেশিরভাগই পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক।

“ঢাকায় প্রতিদিন দুই কোটির বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়, যেগুলো পলিথিন বর্জ্য। এ বর্জ্য সামান্য বৃষ্টিতে নগরে জলাবদ্ধতার প্রকোপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।”

সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে সোবহান জানান, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ৭৯ শতাংশ প্লাস্টিক বা পলিথিন বর্জ্য পানিতে মিশে জলজ প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

“বাংলাদেশে উৎপাদিত প্লাস্টিকের বোতল, বিভিন্ন সামগ্রী এবং পলিথিন ব্যাগের অধিকাংশই পুনর্ব্যবহার, পুনঃচক্রায়ন না করে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে খাল, নদী হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে। জলজ প্রাণী তা গ্রহণ করছে।”

জলজ প্রাণীর মাধ্যমে এই প্লাস্টিক আবার মানুষের খাদ্যচক্রেও প্রবেশ করছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

পবার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১০ সালে প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। প্রতি বছর এই সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে পাঁচ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি এবং বড় শিল্প কারখানায় ১২ লাখ মেট্রিক টনের বেশি প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। দেশে এখন প্লাস্টিক পণ্যের জনপ্রতি ব্যবহার গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৫ কেজিতে।

পবার আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশে প্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহারে পরিবেশ সংরক্ষণে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন।

পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, ব্যবহার, বিপণন ও বাজারজাতকরণের উপর ২০০২ সালে নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘নিষ্ক্রিয়তায়’ সেই আইন কার্যকর করা যায়নি বলে অভিযোগ করেন অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা সোবহান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলাকে দোষারোপ করে তিনি ’রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাবকেও’ প্লাস্টিক দূষণের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সাবেক পরিবেশমন্ত্রীর সমালোচনা করে আবদুস সোবহান বলেন, “২০০২ সালে নিষেধাজ্ঞা আসার পরে বাজারে বিকল্পও চলে এসেছিল। পাটজাত ব্যাগ উৎপাদনে গ্রামীণ কর্মসংস্থানও বেড়েছিল। কিন্তু আইন প্রয়োগে শিথিলতা আসতে পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন বেড়ে গেল।”

প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়ায় (রিসাইকেল) প্রযুক্তি ব্যবহারে পরিবেশ মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের সদিচ্ছা নেই বলেও মনে করেন তিনি।

সভায় বন্ড লাইসেন্সের মাধ্যমে আমদানিকৃত পলি প্রোপাইলিন পলিথিন শপিং ব্যাগ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দেন বক্তারা। টিস্যু ব্যাগ আমদানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানান তারা।

সভায় আলোচক হিসেবে যোগ দেন স্পারসোর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল কাদির, পবার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, সম্পাদক শাহিন আহম্মেদ।

বাজেটে জনগণের কোনো কল্যাণ হবে না: বিএনপি

বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম: রিয়াদুল ইসলাম (আফজাল):ঢাকা: নতুন বাজেটে জনগণের কোনো প্রত্যাশা মিটবে না বলে মনে করে বিএনপি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এই বাজেটে আগামী দিনে আওয়ামী লীগ একটি পরিকল্পিত কারচুপির নির্বাচন করতে যাচ্ছে। তাদের দলীয় নেতাদের চাঙ্গা করার জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে উৎকোচ দেওয়া হবে। এতে জনগণের কোনো কল্যাণ হবে না।

দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত সংহতি সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে সর্বসম্মতভাবে ঘোষণা করতে চাই, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোট কোনো নির্বাচনে যাবে না। জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন। আগামী দিনে বিএনপি এবং ২০ দল যদি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পায় তাহলে বর্তমানের রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে আয়োজিত এই সংহতি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।

‘আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারকে দোষী প্রমাণে যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত রয়েছে’

বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম:ডেস্ক: “রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের বিষয়টি অনেক পুরোনো হলেও এর পক্ষে তেমন তথ্য-উপাত্ত ছিল না। এসব হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের স্থানগুলোতে মিয়ানমার সবাইকে প্রবেশ করতেও দেয়নি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক দায়মুক্তি পেয়েছে। তবে এখন আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারকে দোষী প্রমাণের জন্য যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত রয়েছে।”

আজ (সোমবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং রোহিঙ্গা সংকট’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এ মত দেন। ‘অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ, সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ এবং সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস এই সেমিনারের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মনজুর হাসান বলেন, ‘জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের উপর চলমান হত্যাকাণ্ডকে জাতিনিধনের দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। কিন্তু সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রধান শক্তিগুলো তেমন তৎপরতা দেখায়নি। এই সমস্যার সমাধানে আমাদেরকেই সব থেকে বেশি সক্রিয় হতে হবে এবং সঠিকভাবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য যাবতীয় শান্তিপূর্ণ পথগুলোতে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে সবাই কথা বললেও এতদিনে কেউ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এ ধরনের মানবিক বিপর্যয়মূলক পরিস্থিতিতে কেউ তেমন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। ৭০, ৮০ এবং ৯০ এর দশকে রোহিঙ্গারা এ দেশে আসতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু তখন এসব কর্মকাণ্ডের তেমন কোনো তথ্য-উপাত্ত ছিল না। এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। মিয়ানমারকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত সবার হাতে রয়েছে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ভারত ভেবেছিল এই ইস্যুতে নীরব থেকে মিয়ানমারকে হাত করবে। মূল প্রতিযোগিতা ছিল চীনের সঙ্গে। কিন্তু তাদের মনে রাখা উচিত ছিল মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক খুবই ভালো ও গভীর। তবে এখন ভারত মুখ খুলতে শুরু করেছে।

সমাপনী বক্তব্যে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, ‘মিয়ানমারকে যতক্ষণ পর্যন্ত আইনি বাধ্যবাধকতায় আওতায় আনা না যায়, ততক্ষণ তারা বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে না। সেকারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও জাতিসংঘকে উদ্যোগী হয়ে মিয়ানমারকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশ যেহেতু আইসিসি-এর সদস্য, সেক্ষেত্রে তদন্ত ও বিচার কাজে আমরা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারি।’

অনুষ্ঠানে বিচারপতি সাঈদ রিফাত আহমেদ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ কেট ভিগনেসওয়ারেন রোম চুক্তির বিভিন্ন ধারায় মিয়ানমারকে দোষী প্রমাণের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। সেমিনারে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সবার করণীয় নিয়ে ১১ দফা ঢাকা ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালত তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে কি না এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়। যদিও মিয়ানমার চুক্তিতে সই করেনি, তারপরেও তারা জোরপূর্বক নিজ দেশের নাগরিককে অন্য দেশের সীমানায় তাড়িয়ে দিয়েছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনে বিচারযোগ্য। বাংলাদেশ রোম চুক্তিতে সই করা অন্যতম দেশ। এরপর ১১ এপ্রিল এ যুক্তির পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। আগামী ১১ জুনের মধ্যে বাংলাদেশকে লিখিত মতামত জমা দিতে বলা হয় এবং এই বিষয়ে আগামী ২০ জুন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

ঐতিহাসিক বদর দিবসঃ মুসলমানদের ঈমানী চেতনার প্রতীক

মুহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ:আজ ১৭ রমজান। আজ থেকে প্রায় ৮১৫ বছর আগের ঠিক এই দিনে সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক যুদ্ধ, যার নাম বদরের যুদ্ধ। পবিত্র আল-কুরআনে এ মহান যুদ্ধকে অভিহিত করা হয়েছে ফয়সালাকারী দিন হিসেবে। এ যুদ্ধে মুসলমানরা সংখ্যায় অনেক কম হওয়া সত্তেও মক্কার কাফির তথা কুফরী শক্তিকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। যার মাধ্যমে সত্য-মিথ্যার প্রভেদ ঘটে। এ কারণে বদরের যুদ্ধকে সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীও বলা হয়।বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয় মদীনায় হিজরতের মাত্র ১ বছর ৬ মাস ২৭ দিন পরে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে কুরায়েশরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে মদীনা থেকে বের করে দেবার জন্য নানাবিধ অপচেষ্টা চালায়। অবশ্য কুরাইশ কাফিরদের বাণিজ্য কাফিলাকে বাধা দেয়ার লক্ষ্যে ও তাদের সম্পদ আটকের জন্যই একদল মুসলিম মুজাহিদ বিশ্বনবী (সা.) এর নেতৃত্বে মদীনা থেকে বেরিয়ে আসেন। কাফিররা মক্কায় মুসলমানদের অনেক সম্পদ আটক করে রেখেছিল। তাই এ ধরনের হামলার অধিকার মুসলমানদের ছিল। তবে বড় ধরনের কোনো যুদ্ধ হবে বলে মুসলমানদের কেউই ভাবেননি এবং সে জন্য প্রস্তুতিও ছিল না। কিন্তু কুরাইশ কাফিরদের শীর্ষস্থানীয় নেতা আবু সুফিয়ান তার বাণিজ্য কাফিলার ওপর মুসলমানদের হামলার প্রস্তুতির খবর জানতে পেরে সেই খবর মক্কার কাফিরদের জানালে অনেক কাফির নেতা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ফলে তারা একটি সুসংগঠিত যুদ্ধের আয়োজন করে এবং মুসলমানরাও মহানবীর (সা.) নেতৃত্বে কাফিরদের মোকাবেলা করতে বাধ্য হন।এ যুদ্ধে মুসলিম মুজাহিদদের সংখ্যা মাত্র ৩১৩ জন হওয়া সত্ত্বেও তারা মক্কার সুসজ্জিত প্রায় এক হাজার কাফিরের ওপর বিজয়ী হয়েছিলেন। মহান আল্লাহর অদৃশ্য সাহায্য থাকাতেই তা সম্ভব হয়েছে। এ যুদ্ধে কাফির বাহিনীর ৭০ জন মুজাহিদদের হাতে নিহত এবং তাদের ৭০ জন মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দী হয়। অন্যদিকে মুসলিম বাহিনীর ১৪ জন শাহাদত বরণ করেন। মুসলমানদের পক্ষে এই যুদ্ধের প্রধান বীর ছিলেন আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (আ.)। তিনি একাই ৩৬ জন কাফিরকে হত্যা করেছিলেন যাদের মধ্যে অনেকেই ছিল নেতৃস্থানীয় কাফির সর্দার ও তৎকালীন আরব বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় খ্যাতিমান যোদ্ধা ।আল্লাহ তায়ালা বদর যুদ্ধ সম্পর্কে কুরআনমজিদ এ ইরশাদ করেনঃ وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ الله।ُ بِبَدْرٍ وَأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ فَاتَّقُوْا اللهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ-‘ নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেছেন বদরের যুদ্ধে। অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল। অতএব আল্লাহকে ভয় কর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হ’তে পার’ (আলে ইমরান ৩/১২৩)।এ যুদ্ধে মুসলমানদের মধ্যে ১৪ জন মুজাহিদ শাহাদাত বরণ করেন। এবং কাফিরদের প্রধান আবু জাহেল সহ ৭০ জন কাফের নিহত হন। ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসের বদরের যুদ্ধের তাৎপর্য ও বিজয় অবিস্মরণীয়। কারণ বদরের যুদ্ধের জয়লাভের ফলে একটি পরিপূর্ণ রাষ্ট্রের পরবর্তীতে রূপ চলে আসে। ইসলাম সত্য, মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) সত্য বাণী নিয়ে পৃথিবীতে তাশরিফ এনেছেন তার বাস্তবতা ফুটে উঠে। সর্বোপরী মুসলমানদের আত্মবিশ্বাস তৈরী হয়। মহানবী (সাঃ) বলেন, এ যুদ্ধ সত্য মিথ্যার পার্থক্য তৈরি করে দেয়। যুদ্ধ অস্ত্র, সৈনিক ও বাহু বলের দ্বারাই শুধু জয়লাভ সম্ভব নয় আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল, আত্মবিশ্বাস, ঐক্যতা ও সঠিক নেতৃত্ব এবং যুদ্ধাস্ত্র দ্বারাই বিজয় সম্ভব।বদর দিবসে করণীয়বদর দিবসে করণীয় হলো বদরী সাহাবীদের জন্য আমাদের কল্যানার্থে দোয়া কামনা করা। তাদের উছিলা দিয়ে আল্লাহ্র কাছে দোয়া করা এবং বদরী সকল সাহাবীর প্রতি মহাব্বত ও ঈমানী ভালোবাসা রাখা। আল্লাহ্ পাক আমাদেরকে বদর দিবসের মর্যাদা রক্ষা করার তাওফীক দান করুন এবং তামাম বিশ্ব মুসলমানদের উপর বদর দিবসের চেতনা আবার ফিরে আসুন। গর্জে উঠুক সেই হুঙ্কার, ঈমানী শ্লোগান, ভেঁসে উঠুক আকাশে বাতাসে ইসলামের জয়গান আর কালিমার পতাকা।2 hours ago ·

৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দেবে আওয়ামী লীগ

বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম: মোঃ সোহাগ হোসেন:ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৭ জুলাই গণসংবর্ধনা দেবে আওয়ামী লীগ। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার সক্ষমতা অর্জন, অস্ট্রেলিয়ায় ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ এবং ভারতের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডি-লিট ডিগ্রি অর্জন করায় তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলির বৈঠক শেষে এ কথা জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আগামী ৭ জুন ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি নির্ধারণ এবং আগামী ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা কর্মসূচি নির্ধারণে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

আমদানি করা ছয় ব্র্যান্ডের গুঁড়ো দুধে সিসা, বাজারজাত না করার নির্দেশ

বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম: মোঃ সোহাগ হোসেন: ঢাকা : আমদানি করা দেশি ছয় ব্র্যান্ডের গুঁড়ো দুধে ভয়াবহ মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে। তাই বন্দরে শতভাগ পরীক্ষা ছাড়া বাজারজাত করা যাবে না। বন্দর কর্তৃপক্ষকে এমন নির্দেশনা দিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। তবে ওই ছয়টি ব্র্যান্ডের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডসহ কিছু দেশ থেকে গুড়ো দুধ আমদানি করে নিজস্ব ব্র্যান্ডে বাজারজাত করে দেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এমন ১৫টি ব্র্যান্ডের নমুনা পরীক্ষা করে ছয়টিতে সহনীয় মাত্রার বেশি সিসা পেয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনাগুলো দুটি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়।

মানুষের জন্য সিসার সহনীয় মাত্রা কেজিতে দশমিক শুন্য দুই মিলিগ্রাম। কিন্তু পরীক্ষায় আটকে যাওয়া দুধগুলোতে এর পরিমাণ ১০ থেকে ১৬ গুণ।

বাজারজাত করার আগে বন্দরে গুড়ো দুধে সিসার মাত্রা পরীক্ষায় নির্দেশনা জারি করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। বন্দরে পাঠানো চিঠিতে পরীক্ষার জন্য তিনটি ল্যাব নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে।

গুড়ো দুধে মাত্রাতিরিক্ত সিসায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা। দেখা দিতে পারে শারীরিক ও মানসিক সমস্যা। তাই দ্রুত বাজার থেকে দূষিত দুধ তুলে নেয়ার দাবি জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব।

বাজার থেকে দূষিত দুধ তুলে নেয়াসহ করণীয় ঠিক করতে রোববার আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

১৯