আজ বৃহস্পতিবার,৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং, ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

করোনা থেকে বলছি- ঘরে থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।

এপ্রিল ১৪, ২০২০,৭:২৯ অপরাহ্ণ

 
Spread the love

উইং কমান্ডার এম সালাহউদ্দিন চৌধুরী(অবঃ): প্রিয় পাঠকবৃন্দ আপনারা হয়তো শিরোনাম দেখে কিছুটা ভাবনায় পড়তে পারেন। তাই প্রথমেই এই ব্যাপারে কিছুটা বর্ননা দেয়ার প্রয়োজনবোধ করছি। করোনা নামটি বর্তমানে সারা বিশ্বে এক আতংকের নাম। এই অদৃশ্য নীরব ঘাতক ভাইরাসটি ইতিমধ্যে সারা পৃথিবীতে কেড়ে নিয়েছে লক্ষাধিক প্রাণ এবং আক্রান্ত হয়েছে ষোল লক্ষের বেশী মানুষ (৯ ই এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত)। এর মাঝে কেবল যুক্ত্ররাষ্ট্রেই আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লক্ষের কাছাকাছি এবং মৃতের সংখ্যা আঠারো হাজারের বেশী অর্থাৎ আমেরিকা এখন মহা বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এই লেখাটির সময় (১০এপ্রিল ২০২০ রাত ১টা) পর্যন্ত কেবল নিউইয়র্ক অংগরাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৭০,৭৫৮ এবং তন্মোধ্য মারা গেছেন ৭,৮৪৪ যার মাঝে একশত জনের বেশী প্রবাসী বাংলাদেশী রয়েছেন এবং পাঁচটি বরো নিয়ে গঠিত নিউইয়র্ক সিটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৭,৭২৫ এবং মৃতের সংখ্যা ৫,২৮০। নিউইয়র্ককে বলা হচ্ছে আমেরিকায় করোনা ভাইরাস বা কভিড-১৯ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কেন্দ্রস্থল। সেই নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরোতে কভিড ১৯ ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক এবং এই নিউইয়র্ক সিটিতে করোনা ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল হলো কুইন্স বরোতে অবস্থিত ‘করোনা” নামক এলাকা। আমি বর্তমানে সেই করোনা সিটিতে সপরিবারে অবস্থান করছি এবং এখানে বসেই আজকের এই লেখাটি লিখছি। আমার বাসস্থানের তিন মাইলের মাঝে রয়েছে চাইনীজ অধ্যুষিত ফ্লাশিং সিটি এবং এল্মার্ষ্ট হাসপাতাল যে হাসপাতালটি নিউইয়র্ক সিটির হাসপাতালগুলোর মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী অর্থাৎ উপচে পড়া রোগীর চিকিৎসা প্রদান করছে। সদা কর্মচঞ্চল নিউইয়র্ক সিটিতে যেন নেমে এসেছে মৃত্যুপুরীর নীরবতা। আমার বাড়ীর পিছনে লংআইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়ে হাইওয়ে থেকে কেবল শোনা যায় দিনরাত বিষাদের সাইরেন বাজিয়ে ছুটে চলা এম্বুল্যান্সের অসহনীয় শব্দ। মাঝে মাঝে জানালা দিয়ে দেখি আশেপাশের বাসা থেকে জরুরী রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যারা সকলেই করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের দোয়ায় এখনও সুস্থ আছি এবং বাকী দিনগুলো সুস্থভাবে কাটানোর জন্য সকলের দোয়া প্রত্যাশী।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আমেরিকার মত এতো উন্নত দেশে করোনা ভাইরাস মহামারীর আকার ধারন করলো কিভাবে? তাঁর উত্তরে সেই বাংলা প্রবাদটিই যথার্থ বলে মনে করছি আর সেটা হলো “সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়”। বর্তমান বিপর্যয়ে এদেশের জনগন ট্রাম্প প্রশাসনের বিলম্বিত পদক্ষেপকেই মুলত দায়ী করছেন।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত ৩১ শে ডিসেম্বর ২০১৯ চীনের উহান প্রদেশে কিছু মানুষের রহস্যজনক অসুস্থতার বিষয়ে একটি আগাম সতর্কতামুলক বার্তা জারি করে। ১১ ই জানুয়ারী ২০২০ চীন প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। ২১ শে জানুয়ারী ২০২০ প্রথম আমেরিকার তিরিশ বছরের এক যুবক যিনি চীনের উহান প্রদেশ ভ্রমন শেষে আমেরিকায় ফিরে আসেন তাঁকে পরীক্ষা করলে তাঁর শরীরে কভিড ১৯ ভাইরাস ধরা পড়ে। ২৩ শে জানুয়ারী ২০২০ চীন সরকার উহান প্রদেশে লকডাউন অবস্থা ঘোষনা করে। ৩০ শে জানুয়ারী বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা জরুরী অবস্থা ঘোষনা করে। ২৯ শে ফেব্রুয়ারী ২০২০ ওয়াশিংটন অংগরাজ্যে আমেরিকায় প্রথম কোন করোনা আক্রান্ত রোগী মারা যায়। তখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কভিড ১৯ কে বেশ হালকাভাবেই নিয়েছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়। অবশেষে ১৩ ই মার্চ ২০২০ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে জরুরী অবস্থা ঘোষনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা শুরু করেন। ১৭ ই মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ টি অংগরাজ্যে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর সন্ধান মিলে অর্থাৎ পুরো আমেরিকাব্যাপী এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। এই অযাচিত বিলম্বিত পদক্ষেপ মানুষের জীবনযাত্রা, প্রাণ ও অর্থনীতির ভয়ানক ক্ষতিসাধন করেছে বলে অনেকেই বিশ্বাস করছেন।  এই বিষয়ে ওবামা প্রশাসনের সাবেক হেলথ ও হিউম্যান সেক্রেটারী ক্যাথেলিন সেবেলিয়াস বলেন-‘আমরা মুলতঃ মুল্যবান দুই মাস সময় অপচয় করেছি’। নিউইয়র্কের স্বনামধন্য Icahn School of Medicine at Mount Sinai এর গবেষকগণ তাঁদের সাম্প্রতিক গবেষণা কর্মে চুড়ান্তভাবে মোট ৭৮ জন আক্রান্ত রোগীর উপর গবেষণা করে দেখেন যে তাঁদের মধ্যে কেবল একজন এশিয়া থেকে এই ভাইরাসটি নিউইয়র্কে বহন করে নিয়ে আসে এবং বাকী সকলেই ইউরোপ থেকে আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কে আগমন করেন এবং নিউইয়র্ক সিটিতে এই ভাইরাসের আগমন শুরু হয় ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথমভাগে। অর্থাৎ সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়ে যদি ইউরোপের সাথে ভ্রমন যোগাযোগ বন্ধ করা হত  কিংবা কিছু সময় আগে থেকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা শুরু করা হত তবে যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো এমন মহাবিপর্যয়ে পড়তে হতোনা বলে অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করছেন। এখানে উল্লেখ্য যে কভিড ১৯ ভাইরাসটি পরিবেশ ও পরিস্থিতি ভেদে তাঁর চরিত্র পাল্টাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। আমরা প্রায় সকলেই হয়তো  ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি যে এই ঘাতক ভাইরাসটি মুলত চীনের উহান প্রদেশের প্রানীর শরীর থেকে সংক্রমিত হলেও এটা বর্তমানে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি থেকে তাঁর নিকটস্থ ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে। এই সংক্রামক রোগের উপসর্গ হিসেবে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে জ্বর অনুভুত হয়, সাথে কফ ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়। আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়া এই ঘাতক ভাইরাসে কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করে আমি কি কি সতর্কতা অবলম্বন করছি সেই অভিজ্ঞতা পাঠকদের সাথে শেয়ার করা আমার মুল লক্ষ্য- কেননা এই ভাইরাস নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতের বাইরেও হাজার রকম গল্পগুজব সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে একজন খ্রিস্টান পাদ্রীর উপদেশে তরল জীবাণুনাশক ‘ডেটল’ পান করে ৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বাংলাদেশে এমনকি ২৪ ঘন্টায় সফলভাবে করোনা ভাইরাস রোগের চিকিৎসা করার বিজ্ঞাপনও দেখা গেছে ফেসবুক সহ অন্যান্য মিডিয়ায়,যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও শংকার কারণ। আমরা বাংলাদেশীরা সাধারণত সহজ সরল ও আবেগপ্রবণ মানুষ, বিশেষ করে স্বল্প শিক্ষিত ও নিরক্ষর মানুষদের সরলতার সুযোগে কিছু দুষ্ট চক্র টু পাইস কামানোর ধান্দা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বলে জানা যায়। এইসব মুনাফালোভী দুষ্টচক্রের কাছে তড়িৎ অর্থ আয়ের বিষয়টিই মুখ্য,মানুষের জীবন নয়। এখানে একটি বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে চাই যে, দুনিয়ার তাবৎ জাঁদরেল চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিজ্ঞানী, গবেষকগণ রাত-দিন এক করেও মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া এই ঘাতক ব্যাধির বিরুদ্বে সুনিশ্চিত কোন চিকিৎসাবিধি বা প্রতিষেধকমুলক কোন ভ্যাকসিন আজ অবধি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়নি। তবে নিরন্তর প্রচেষ্টা চলছে এবং আশা করা যাচ্ছে একটি সুনিশ্চিত সমাধান আবিষ্কৃত হবে এক থেকে দেড় বছর  কিংবা তারও পুর্বে। অনেক বিশেষজ্ঞ আবার ধারণা করেছেন যে, উষ্ণ এবং অধিক আদ্র আবহাওয়ায় কভিড ১৯ হয়তো সংক্রমিত হতে পারবে না। তাঁদের মতামতের প্রতি শ্রদ্বা রেখেই বলছি যে তাঁদের ধারণা হয়তো ভবিষ্যতে কখনো সত্যি হতেও পারে তবে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে একটি ঘটনার উল্লেখ করা অপরিহার্য মনে করছি।
আমেরিকার ফ্লোরিডা অংগরাজ্যে গত প্রায় দুই সপ্তাহের বেশী সময় ধরে তাপমাত্রা মোটামুটি ৫৬-৯০ ডিগ্রি  ফারেনহাইটের মধ্যে উঠানাম করছে এবং আদ্রতার পরিমাণ প্রায় ৬৩% থেকে ৮৪% এবং সেখানে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় সতের হাজার। করোনা ভাইরাস কেবল বয়স্কদের এবং অসুস্থ মানুষদের কাবু করতে পারে বলে একটি তত্ব প্রচলিত রয়েছে যা সম্পুর্ন ভুল, কেননা শিশু থেকে শুরু করে তরুণ, যুবারাও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এই পর্যন্ত সর্বাধিক ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে সামাজিক দুরত্বের মাধ্যমেই যা আমি এবং আমার পরিবার অনুসরণ করার চেষ্টা করছি। নিজেকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি অন্যকেও  নিরাপদ রাখার ভালো উপায় হচ্ছে আক্রান্ত ব্যাক্তি থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরে রাখা। বিশেষজ্ঞগণ যদিও বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তি বা একে অপরের থেকে কমপক্ষে ৬ ফুট দুরত্বে অবস্থান করা দরকার। তবে এখন পর্যন্ত আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, সবচেয়ে উত্তম পন্থা হলো ঘরে থাকা, ঘন ঘন সাবান দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া, চোখে, মুখে ও নাকে হাত না দেয়া, ভিটামিন ‘সি’ ‘ডি’ যুক্ত সবুজ শাক সব্জি সম্বলিত খাবার গ্রহণ করা, হালকা ব্যায়াম করা, পরিমিত ঘুমানো, মন প্রফুল্ল রাখা। এমন দুর্যোগে মন শান্ত ও প্রফুল্ল রাখা খুব জরুরী। মন প্রফুল্ল রাখার জন্য পছন্দের বই পড়া, মুভি নাটক দেখা, প্রিয়জনদের সাথে ফোনে কথা বলে-দূরে থেকেও কাছে থাকা। যার যার ধর্মানুযায়ী প্রার্থনা করা একটি অতি উত্তম পন্থা। প্রার্থনা মন ভালো রাখার জন্য একটি কার্যকরী থেরাপি বলে উন্নত বিশ্বেও সমাদৃত হচ্ছে। প্রার্থনা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী মেডিটেশন।
আমি জানি, আমাদের দেশের বৃহৎ হতদরিদ্র কর্মজীবী গোষ্ঠী রয়েছেন যারা দিন আনে দিন খায় অবস্থার মধ্যে জীবনযাপন করেন। তাঁদের জীবিকা ও আয় উপার্জনের জন্য বাধ্য হয়েই ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে। তাঁদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কিছু পদক্ষেপের খবর শুনে আশান্বিত হওয়ার পাশাপাশি কিছুটা হতাশাও গ্রাস করছে, যখন দেখি সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কতিপয় দলীয় অসাধু ব্যক্তিরা দুর্নীতি ও অনাচারের পথ বেছে নিয়েছেন। সরকারকে এই বিষয়ে আরও কার্যকরী ভুমিকা গ্রহণ করতে হবে। তাঁদের মনে রাখতে হবে, এই দুর্যোগ তাঁদের জন্য একটি সুযোগ এনে দিয়েছে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের। তাঁরা যদি এই আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয় তবে ইতিহাসের কাছে তাঁদের দায়বদ্ধতা রয়ে যাবে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের অবস্থাশালী ধনবান ব্যক্তিদেরও বিশেষভাবে অনুরোধ করব এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে সাহায্য ও সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতে। মনে রাখতে হবে এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীই আমাদের মানব সম্পদ। এই মানুষগুলোই আমাদের অর্থনীতির চাকা চালু রাখতে সবচেয়ে বেশী অবদান রেখে চলেছে। এই সকল কর্মজীবী দরিদ্র মানুষরাই কেউ পোশাককর্মী, কেউবা আবাসন শ্রমিক, কেউবা অন্য পেশার। তাঁদের সাহায্যের ক্ষেত্রে অনেক প্রবাসী ভাই বোনেরাও ব্যক্তিগত ও সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। তবে সকলের মিলিত সাহায্যের হাত আমাদের এই মুল্যবান মানবসম্পদ রক্ষায় কার্যকরী ভুমিকা রাখবে বলে আশা করি।
প্রিয় পাঠকবৃন্দ, অতীতেও  বিশ্ব মানবগোষ্ঠী এই ধরনের মহাদুর্যোগ ও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে বহুবার এবং প্রতিটি দুর্যোগের সময় সৃষ্টিকর্তার মহানুভবতায় নিজেদের সুচিন্তিত গবেষণা, প্রচেষ্টা ,ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে সেই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠেছে বারবার। আমরা আশা করছি বর্তমান দুর্যোগ ও মহামারীও আমরা কাটিয়ে উঠব ইনশাল্লাহ। তবে এই দুর্যোগের পাশাপাশি আমরা সম্ভবত মুখোমুখি হতে যাচ্ছি অর্থনৈতিক ও খাদ্য মহামন্দায়। সেই দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সকল ভেদাভেদ ভুলে সম্মিলিতভাবে এখনই সঠিক ও কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন। এই ধরনের মহামন্দা মোকাবেলার ক্ষেত্রে দুটি চমৎকার উদাহরণ আমাদের সামনেই রয়েছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের সময় নিরবিচ্ছিন্ন খাদ্য সরবরাহ বজায় রাখা এবং জনগণের মনোবল চাঙ্গা রাখার লক্ষ্যে আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া সহ অনেক দেশের সরকার তাঁদের জনগণকে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বাড়ীর আঙ্গিনায় ফলমুল, শাক সব্জী উৎপাদনে উৎসাহিত করে আশাতীত ফলাফল পায়। পাশাপাশি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় পতিত জমিতেও এই ধরনের কৃষি কাজ করে খাদ্যের মহামন্দা কাটিয়ে উঠেছিল তাঁরা। সেই উদ্যোগের নাম দেয়া হয় “ওয়ার গার্ডেন” বা “ভিক্টোরি গার্ডেন”। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্বে চলমান যুদ্বের পাশপাশি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটকে সফলভাবে মোকাবেলার জন্য আগাম সমন্বিত পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা যেতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে, কভিড ১৯ মহামারী নিঃসন্দেহে পুরো বিশ্বকে একটি কঠিন যুদ্বের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এ এক অন্যরকম যুদ্ব। এই যুদ্বে জয়ের জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা, সতর্কতা সহ সকলের সম্মিলিত প্রয়াস। নিশ্চয়ই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই যুদ্বে জয়ী হব। পরিশেষে বাংলাদেশ সহ সমগ্র বিশ্ব এই মহামারী ও দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পাক, প্রতিটি মানুষের জীবনে স্বাভাবিকতা ফিরে আসুক-আমেরিকার কভিড ১৯ মহামারীর কেন্দ্রস্থল “করোনা সিটি” থেকে এই প্রার্থনা করছি। ঘরে থাকুন-সুস্থ থাকুন। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন। আমিন।
লেখকঃ সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তা ও কলামিষ্ট।

 

Chairman

Md. Riadul Islam (Afzal)
Chairman
www.bdnewstv24.com
 

সর্বশেষ সংবাদ

 

সারাবাংলা

 

 

Site Developed By: Md. Shohag Hossain