নিম্নমানের ৫২ পণ্যের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকারের অভিযান

মে ১৯, ২০১৯,২:৪৮ অপরাহ্ণ

 
Spread the love

মোঃ রিয়াদুল ইসলাম (আফজাল),বিডিনিউজটিভি২৪ডটকম : উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী বাজারে বিক্রির জন্য নিষিদ্ধ হওয়া ৫২ পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও দোকানে এ অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ৭টি দল। এগুলোর মধ্যে অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের নেতৃত্বে মূল দলটি অভিযান চালায় কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি এবং নিউমার্কেট এলাকায়। এ সময় অভিযানে আরও ছিলেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাসুম আরেফিন, আফরোজা রহমান এবং ইন্দ্রাণী রায়সহ ঢাকার দুই সিটি নিম্নমানের ৫২
(শেষের পাতার পর)
কর্পোরেশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা। অভিযানে বেশিরভাগ দোকানেই নিষিদ্ধ ঘোষিত ৫২টি পণ্যের কোনটিই পায়নি বাজার মনিটরিং টিম। তবে কারওয়ান বাজার ও নিউমার্কেটের কয়েকটি দোকানে নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা কয়েকটি পণ্য বিক্রির জন্য মজুদ অবস্থায় পায় মনিটরিং দল। এগুলোর মধ্যে মোল্লা সল্ট এবং ডুডল ব্র্যান্ডের নুডলস অন্যতম। এ সময় নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা না মানায় কারওয়ান বাজারের নাসির স্টোরকে ১০ হাজার টাকা এবং নিউমার্কেটে জব্বার স্টোর ও বিসমিল্লাহ স্টোরকে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, বিক্রি নিষিদ্ধ পণ্যের বেশিরভাগ পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফেরত নিয়ে গেছে। নিউমার্কেটের দোকান ব্যবসায়ী মোরশেদ আলী বলেন, বেশিরভাগ পণ্যই কোম্পানিগুলো ফেরত নিয়ে গেছে। আমার দোকানে যেটি পাওয়া গেছে সেটি এখনও ফেরত নেয়নি, তাই রয়ে গেছে। কোম্পানিগুলো নিয়ে গেলে তো আর আমরা সেগুলো রাখি না, তাই না? এদিকে যেসব দোকানে এসব নিষিদ্ধ পণ্য পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর কোনটিকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। আবার কোনটিতে অল্পমাত্রায় আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে। তবে রোববার থেকে এসব পণ্য বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে বলে জানান ভোক্তা অধিকারের কর্তারা। প্রয়োজনে দেওয়া হবে জেল। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, আমরা বিএসটিআই এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করে এসব পণ্য বিক্রির জন্য নিষেধ করতে বলেছি। এরপরে ব্যবসায়ীদের আর এসব পণ্য বিক্রির পেছনে কোনো অজুহাত থাকতে পারে না। আজ বাজারগুলোতে বেশিরভাগ জায়গায় আমরা এসব পণ্য পাইনি। কিছু জায়গায় পেয়েছি, সেখানে অল্প জরিমানা করেছি। আগামীকাল (আজ রোববার) ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে আমাদের কার্যালয়ে একটি সভা হবে। তারপরেও যদি এসব পণ্য বিক্রি হয় তাহলে আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব পণ্য বাজার থেকে ফেরত নিচ্ছে সেগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের সামনে নষ্ট করতে হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, যেসব পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো সেগুলো যেন আবার অন্য নামে বা অন্য কোনো উপায়ে বাজারে আসতে না পারে সেদিকে আমরা নজর রাখছি। এজন্য আমাদের (ভোক্তা অধিকার, বিএসটিআই এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ) উপস্থিতিতেই সেসব পণ্য নষ্ট করতে হবে। নিষিদ্ধ পণ্যগুলো ছাড়াও বাজার মনিটরিং-এর নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে মনিটরিং টিম। এ সময় আমদানি অনুমোদন না থাকলেও বিদেশি পণ্য অনুমোদন এবং সেগুলোতে প্রয়োজনীয় তথ্য সম্বলিত লেবেল না থাকায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করাসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের অপরাধে মোট ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৬১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারসহ অলি-গলির দোকানগুলোতে এখনও বিক্রি হচ্ছে মানহীন ৫২ পণ্য। শনিবারের মধ্যে পণ্যগুলো প্রত্যাহার করার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো তা করেনি। গত ১২ মে নিম্নমানের এসব পণ্য বাজার থেকে জব্দ করে ধ্বংস করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নিদের্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এদিকে হাইকোর্টের রায়ের পর ৭দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুধু বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এ পর্যন্ত ৫২টি পণ্যের মধ্যে ৯টির লাইসেন্স বাতিল করেছে। তবে হাইকোর্টের রায়ের পর অনেক ভোক্তা সচেতনও হয়েছেন। অনেকে বাজার করতে গিয়ে সঙ্গে নিয়ে গেছেন বিক্রি নিষিদ্ধ মানহীন সেই ৫২ পণ্যের তালিকা। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড়, ধূপখোলা মাঠ, দয়াগঞ্জ বাজার, সূত্রাপুর, শ্যামপুর, নয়াবাজার, রায়সাহেব বাজার, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজারের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ বেশ কিছু দোকানে খোঁজ নিয়ে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, এসব বাজার ছাড়াও অলি-গলির দোকানগুলোতে এখনও নিষিদ্ধ সেই ৫২ পণ্য বিক্রি হচ্ছে। তবে এসব পণ্য দোকানের সামনে রেখে বিক্রি করতে দেখা যায়নি। দোকানের পেছনে রেখে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এদিকে দুয়েকটি কোম্পানি কিছু পণ্য বাজার থেকে সরালেও এখনো শেষ করতে পারেনি। এ ছাড়া অন্যান্য কোম্পানির পণ্যও রয়ে গেছে বাজারে। এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের এসব পণ্য সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিতেও দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অনেকেই জানেন না। আবার এমনও রয়েছেন যারা জেনেশুনেই ক্রেতাদের গছিয়ে দিচ্ছেন মানহীন পণ্যগুলো। আর এতে প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ভোক্তারা। রমজান মাস উপলক্ষে খোলা বাজার থেকে ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে বিএসটিআই। প্রতিবেদন পাওয়া ৩১৩টি পণ্যের মধ্যে ৫২টি পণ্য নিম্নমানের প্রমাণিত হয়। সরিষার তেল, হলুদের গুঁড়া, কারি পাউডার, লাচ্ছা সেমাই, আয়োডিনযুক্ত লবণ, ড্রিংকিং ওয়াটার, স্পেশাল ঘিসহ এসব নিম্নমানের পণ্য দেশের নামি-দামি ব্র্যান্ডের। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট করে কনশাস কনজুমার সোসাইটি নামের একটি সংগঠন। পরে গত ১২ মে এই ৫২টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশ বাস্তবায়ন করে ১০ দিনের মধ্য প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিক্রি নিষিদ্ধ পণ্য হলো- তীর, জিবি, পুষ্টি ও রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের সরিষার তেল, সান ব্র্যান্ডের চিপস, আরা, আল সাফি, মিজান, দিঘী, আর আর ডিউ, মর্ণ ডিউ ব্রান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, ডানকানের ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, মিষ্টিমেলা, মধুবন, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, ডুডলি ব্র্যান্ডের নুডলস, টেস্টি তানি তাসকিয়া ও প্রিয়া সফট ড্রিংক পাউডার, ড্যানিশ, ফ্রেশ ব্র্যান্ডের হলুদের গুঁড়া, ড্যানিশ ব্র্যান্ডের কারি পাউডার, বনলতা ব্র্যান্ডের ঘি, পিওর হাটহাজারীর মরিচের গুঁড়া, মোল্লা সল্টের আয়োডিনযুক্ত লবণ, কিং ব্র্যান্ডের ময়দা, রূপসা ব্র্যান্ডের দই, মক্কা ব্র্যান্ডের চানাচুর, মেহেদী ব্র্যান্ডের বিস্কুট, বাঘাবাড়ী স্পেশালের ঘি, নিশিতা ফুডসের সুজি, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মঞ্জিল ফুডের হুলুদের গুঁড়া, মধুমতি ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, সান ব্র্যান্ডের হলুদের গুঁড়া, গ্রীনলেনের মধু, কিরণ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ডলফিন ব্র্যান্ডের মরিচের গুঁড়া, ডলফিন ব্র্যান্ডের হলুদের গুঁড়া, সূর্য ব্র্যান্ডের মরিচের গুঁড়া, জেদ্দা ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, অমৃত ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপার, তিন তীর, মদিনা, স্টারশিপ ও তাজ ব্র্যান্ডের আয়োডিন যুক্ত লবণসহ ৫২টি ব্র্যান্ডের পণ্য।

 

Chairman

Md. Riadul Islam (Afzal)
Chairman
www.bdnewstv24.com
 

সর্বশেষ সংবাদ

 

সারাবাংলা

 

 

Site Developed By: Md. Shohag Hossain