সংরক্ষিত মহিলা আসনেও চমক দেবে আ.লীগ

জানুয়ারি ১৪, ২০১৯,১:১৩ অপরাহ্ণ

 
Spread the love

বিডি নিউজ টিভি ২৪ ডট কম: মোঃ আকাশ হোসেন সুজন: ঢাকাঃ জোর আলোচনা চলছে একাদশ জাতীয় সংসদে কারা হচ্ছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি। চলছে মহিলা এমপি প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ, লবিং। তুলে ধরছেন দলের জন্য নিজের নানা অবদান, ত্যাগ, তীতিক্ষার বর্ণনা; চাইছেন নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কাড়তে বিশাল বর্ণনা দিয়ে নিজেদের বায়োডাটা জমা দিচ্ছেন গণভবনে। যোগাযোগ করছেন দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, এবার সংরক্ষিত মহিলা আসনেও বড় ধরণের চমক আসবে। যারা অতীতে দলের জন্য অবদান রেখেছেন, ত্যাগ করে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের এবার মূল্যায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে মহিলা এমপিদের মনোনয়ন দিতে একটি শর্ট লিস্ট তৈরীর কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ।
এদিকে জাতীয় নির্বাচনের পর সকল সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি প্রার্থীরা ঢাকায় অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, গণভবন থেকে শুরু করে দলের হেভিওয়েট নেতা, নতুন মন্ত্রীত্ব পাওয়া নেতাদের বাসায় বিচরণ করছেন তারা। ভোট পেতে সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তবে তারা বিশ্বাস করেন প্রধানমন্ত্রী না চাইলে তারা এমপি হতে পারবেন না। তাই সবার প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তারা। এজন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যদের যোগদান নিশ্চিত করতে চায় দলটি। ফলে এর মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। আগামীকাল মঙ্গলবার সংরক্ষিত মহিলা আসনে দলের মনোনয়র ফরম বিক্রি করা হবে।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, প্রতি ৬ আসনে একজন করে সংরক্ষিত মহিলা এমপি নির্বাচিত করার বিধান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মোট আসন পেয়েছে ২৫৭টি। সে হিসেবে আওয়ামী লীগ পায় ৪৩টি আসন। জাতীয় পার্টি ২২ এমপির বিপরীতে আসন পায় ৪টি। মহাজোটের অন্যান্য দলের ৬টি বা তার বেশি আসন না পাওয়ায় এককভাবে কেউ সংরক্ষিত আসনে মহিলা এমপির মনোনয়ন দিতে পারবেন না। দশম জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত আসনের ৪২টিই আওয়ামী লীগের। এর বাইরে জাতীয় পার্টির ৬টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির একটি করে সংরক্ষিত আসনের এমপি রয়েছে।
এবার যারা আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হতে পারেন তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, শিক্ষা সম্পাদক শামসুন নাহার চাপা, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি, মেরিনা জাহান, পারভীন জামান কল্পনা। কেন্দ্রীয় নেত্রী হিসেবে মূল্যায়িত হতে পারেন তারা। দেখা যেতে পারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় ধানমন্ডি থানা মহিলা লীগের সভাপতি শেখ মিলিকে। এক-এগারোর সময় প্রধানমন্ত্রী যখন সাব জেলে ছিলেন তখন পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি পাশে ছিলেন, নিয়মিত দেখা সাক্ষাত করতেন এবং মিডিয়াতে সেসব বিষয়ে কথা বলতেন। সৎ ও নির্লোভ ব্যক্তি হিসেবে তার বাবা মরহুম শেখ আকরাম দীর্ঘ দিন আওয়ামী লীগে ভূমিকা রেখেছেন।
আরো দেখা যেতে পারে, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য কানতারা খান চট্ট্রগাম সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ন অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী। আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লিনা। সোহানা একজন নারী হিসেবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন মাদরাসায় জঙ্গিবাদ বিরোধী সেমিনার করে বেশ আলোচিত। আর অ্যাডভোকেট লীনা আলোচনায় আসেন, দন্ডপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য কোন মিডিয়াতে নিউজ হতে পারবে না-আদালতে এমন একটি রিট করে।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ফাতিনাজ ফিরোজ। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সেলিনা আক্তার। সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবি মহিলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ- সম্পাদক। যুব মহিলা লীগের সহ-তথ্য সম্পাদক তানিয়া সুলতানা হ্যাপী। হ্যাপী নির্বাচন পর্যবেক্ষক উপ-কমিটি ও পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন।
মহিলা লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুন, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃক, কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন রুখসানা, যুবমহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, স্বাস্থ্য উপকমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনি।
পুরনোদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন, তারানা হালিম, ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শিরীন নাঈম পুনম, সানজিদা খানম, ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি, নূরজাহান বেগম মুক্তা, যুব মহিলা লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন মাহজাবিন খালেদ, ওয়াসিকা আয়েশা খান, নিলুফার জাফর উল্লাহ।
আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপকমিটি সদস্য সুমনা আক্তার লিলি, রংপুরের মেয়ে লিলি আলোচনায় এসেছে ব্যরিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামালা করে। ছাত্রলীগের সাবেক এই শিক্ষানবিশ আইনজীবি নেত্রী রাজপথে আন্দোলন, সংগ্রাম, মিছিলের সম্মূখে থাকার কারনে সারাদেশে পরিচিত মুখ, রাজশাহীর বেগম আক্তার জাহান, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার রেণী, সহ-সভাপাতি নিঘাত পারভীন, ইয়াসমিন রেজা ফেনসি, সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেসা তালুকদার। চেমন আরা তৈয়ব, বরিশালের জেবুন্নেছা আফরোজ, ময়মনসিংহের মনিরা সুলতানা, নীলফামারীর অ্যাডভোকেট তুরিন আফরোজ, মৌলভীবাজারের সায়রা মহসিন, কুষ্টিয়ার সুলতানা তরুণ। নীলফামারী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শান্তনা চক্রবর্তী।
অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রয়াত এম এ আজিজের স্ত্রী রাবেয়া আজিজ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও প্রয়াত মাহবুবুল হক শাকিলের স্ত্রী অ্যাডভোকেট নীলুফার আনজুম পপি, বঙ্গবন্ধুর চাচাত ভাই শেখ হাফিজুর রহমান টোকনের স্ত্রী শেখ এ্যানি রহমান, সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মহসীন আলীর স্ত্রী সায়েরা মহসীন, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হকের স্ত্রী দিলশাদ আরা মিনু ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক। পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শমী কায়সার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী।
প্রয়াত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বোন সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি আলোচনায় রয়েছেন। এছাড়া শিল্পীদের মধ্যে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী, রোকেয়া প্রাচী, অরুণা বিশ্বাস, তারিন জাহান, অপু বিশ্বাস রয়েছেন আলোচনায়।
সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গেজেট প্রকাশ হয়েছে ১ জানুয়ারি। এর পরবর্তী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে দল বা জোটগুলো বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের জোটের অবস্থান নির্বাচন কমিশনকে জানানোর নিয়ম রয়েছে। সে অনুযায়ী একাদশ সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানে আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে দলগুলোকে ইসিতে জোটের তথ্য দেবে। ইসি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তালিকা প্রস্তুত করবে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যদের জন্য কোনও নির্ধারিত নির্বাচনি এলাকা নেই। তারা কেবল দলীয় বা জোটের সদস্য হিসেবে পরিচিত হবেন। এক্ষেত্রে দল বা জোটের প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে মহিলা আসন বণ্টিত হবে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মোট আসন পেয়েছে ২৫৭টি। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, প্রতি ৬ আসনে একজন করে সংরক্ষিত মহিলা এমপি নির্বাচিত করার বিধান। সে হিসেবে আওয়ামী লীগ পায় ৪৩টি আসন। জাতীয় পার্টি ২২ এমপির বিপরীতে আসন পায় ৪টি। মহাজোটের অন্যান্য দলের ৬টি বা তার বেশি আসন না পাওয়ায় এককভাবে কেউ সংরক্ষিত আসনে মহিলা এমপির মনোনয়ন দিতে পারবেন না। দশম জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত আসনের ৪২টিই আওয়ামী লীগের। এর বাইরে জাতীয় পার্টির ৬টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির একটি করে সংরক্ষিত আসনের এমপি রয়েছে।
যারা দলের ও সরকারের দুর্দিনে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, বিভিন্ন কাজে অবদান রেখেছেন, দলের ও দলের সহযোগী সংগঠনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন -এমন জনপ্রিয় নেত্রীরা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন গুণসম্পন্ন কর্মীর তালিকা তৈরি করছেন বলে জানান দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য ও প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক।

 

Chairman

Md. Riadul Islam (Afzal)
Chairman
www.bdnewstv24.com
 

সর্বশেষ সংবাদ

 

সারাবাংলা

 

 

Site Developed By: Md. Shohag Hossain